শনিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ইয়াবা কারবারিদের দৌরাত্ম বেড়েছে

সীমান্ত দিয়ে ৪ সহোদরের নিয়ন্ত্রণে আসছে ইয়াবা

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া   |   শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০১৯

সীমান্ত দিয়ে ৪ সহোদরের নিয়ন্ত্রণে আসছে ইয়াবা

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকায় বাড়ি স্থানীয় কলিম উল্লাহ’র তার রয়েছে ৪টি ছেলে। এদের সবার বড় আবুল খাইর (২৮), তার ছোট আবু তাহের (২৬) সেজ ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২২) এবং একদম ছোট আবু বক্কর(১৯)। সবার বড় আবুল খায়ের গত ২২ সেপ্টেম্বর ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে কক্সবাজার বিমান বন্দর পুলিশে হাতে আটক হয়ে বর্তমানে জেলে আছে। বাকী ৩ভাই বাড়িতে থাকেন। কিন্তু এদের মধ্যে আবু তাহের এবং আবু বক্করের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মামলা গুলো জামিনে থাকায় পুলিশ তাদেরকে
আটক করছেনা এমন অভিমত অনেকের। তবে অভিযোগ উঠেছে, এরা সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী বর্তমানে তারা বহাল তবিয়তে ইয়াবা ব্যবসা করে গেলেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

আঞ্জুমানপাড়া এলাকার জাহেদ আলম বলেন, কলিম উল্লাহ ৪ ছেলে মধ্যে একজন ইয়াবাসহ আটক হয়ে বর্তমানে জেলে থাকলেও বাকী ৩ভাই বেপরোয়া ভাবে ইয়াবা ব্যবসা করে যাচ্ছে। কেউ তাদের বিরুদ্ধে মূখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। কারণ তাদের টাকার কাছে আইনশৃংখলাবাহিনী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর মানুষ অন্ধ। তাদের বিরুদ্ধে বলার কারনে আমিও মিথ্যা মামলা,হামলার শিকার হতে পারি এমন সন্দেহ পোষন করেন জাহেদ আরো বলেন, ৪ সহোদর ছাড়াও স্থানীয় কতিপয় ইয়াবা কারবারিরা সীমন্তের কাটাতারের বেড়া ঘেষে দিনের বেলায় অবস্থান নেয়, রাতে ইয়াবা চালান নিয়ে মৎস্য ঘের হয়ে আঞ্জুমানপাড়া এলাকায় ঢুকে। পরে সুযোগ বুঝে স্থানীয় এবং রোহিঙ্গা যুবক/যুবতির দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে থাকে।
তিনি আরো বলেন, ২০১৮সালের ৩১মে আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ইয়াবা চালান নিয়ে আসার সময় দেখে ফেলায় তার ভাতিজা জুহুর আলমকে কূপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে মোক্তার আহমদ (৫০) এবং তার ছেলে মোঃ ইসমাঈল (২২)সহ ১৫/২০জনকে আসামী করেন। মামলায় অনেকে জামিনে এসে আবারো ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। তাদের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রনে ওই ৪ সহোদর নাম উঠে আসে। জানা গেছে, মিয়ানমারের কাছাকাছি সীমান্ত উপজেলার হওয়ার কারনে উখিয়া-টেকনাফে ইয়াবা ও মাদকের চালান বন্ধ হচ্ছে না। টেকনাফে প্রতিনিয়ত ইয়াবা ও মাদক কারবারিরা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃংখলাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে শীর্ষ ইয়াবা ও মাদক কারবারিরা নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে উখিয়ার কয়েকটি সীমান্তকে। তৎমধ্যে পালংখালী সীমান্ত এলাকা অন্যতম। এছাড়াও বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে এই দুই সীমান্ত এলাকার নিকটবর্তী স্থানে। রাতের আধারে এই শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার গুলো রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে এই দুই সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ও মাদকের চালান নিয়ে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মজুদ করছে।

সুত্রমতে,২০১৭সালে আগস্টের পরে মিয়ানমার থেকে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে উখিয়ার উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে। তাই এই সীমান্তের এপার আর ওপার তাদের কাছে পরিচিত। তাছাড়া মিয়ানমারের এক সময়ের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী চিক্কুইন্যার নামের এক ব্যক্তি আশ্রয় নিয়েছে শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এই ক্যাম্প থেকে সীমান্তের দুরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার। যার ফলে তার নেতৃত্বে পালংখালী এলাকার ৪ সহোদরের সিন্ডিকেটসহ ডজন খানেক ইয়াবা ব্যবসায়ী রাতের আধারে মৎস্য ঘেরের আড়ালে ইয়াবা চালান নিয়ে এসে সীমান্ত এলাকা মজুদ করে থাকে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের এক সময়ে যারা ইয়াবা গডফাদার ছিল তারা বর্তমানে শফিউল্লাহকাটা এবং বালুখালী ক্যাম্পে অবস্থান করছে। আগে থেকে তাদের সাথে মিয়ানমারের যে সমস্ত রাখাইন ইয়াবা গডফাদার গুলো পরিচিত ছিল তাদের মাধ্যমে সীমন্তের আঞ্জুমানপাড়া এবং বালুখালী দিয়ে এখনো প্রতিনিয়ত ইয়াবা চালান নিয়ে আসছে। সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত কিছু ইয়াবা ব্যবসায়ী রোহিঙ্গাদের সাথে আতাত করে এই ইয়াবা ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি দাবী করেন।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর বলেন, ইয়াবা ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান আছে। ইয়াবা ও মাদক কারবারি যে হোক না কেন তাকে ছাড় দেওয়া হবেনা। তবে গত ১ সপ্তাহ যাবৎ উখিয়ার আলোচিত ফোর মার্ডার নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি পুলিশ রাত দিন কাজ করে যাচ্ছে। যার কারনে ইয়াবা ও মাদক বিরোধী অভিযান একটু হ্রাস পেয়েছে। আশাকরি দুই/এক দিনের মধ্যে আবারো পুরোদমে অভিযান শুরু হবে।

Comments

comments

Posted ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com