• শিরোনাম

    বিজিবির নিষেধাজ্ঞায় সাগরে মৎস্য আহরণ বন্ধ

    সীমান্ত সতর্কতায় বিপাকে টেকনাফের দশ হাজার জেলে পরিবার

    নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ | ৩০ আগস্ট ২০১৮ | ২:০৮ পূর্বাহ্ণ

    সীমান্ত সতর্কতায় বিপাকে টেকনাফের দশ হাজার জেলে পরিবার

    গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা নির্যাতনের এক বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অনাকাংখিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুই দেশের সীমান্ত রক্ষি বাহিনী বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বাহিনী বিজিবি সর্তকতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে গত ২১ আগস্ট থেকে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের মৎস্য আহরণের উপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যা এখনও বহাল রয়েছে। এছাড়া ইয়াবা পাচার রোধে গত প্রায় এক বছর ধরে নাফ নদীতে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে বিপাকে রয়েছে টেকনাফের প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার। শুধু জেলে পরিবারই নয় গত এক সপ্তাহ যাবৎ বাজারে মাছের সৎকট দেখা দিয়েছে। এতে শুধু জেলে পরিবারই নয় সাধারন মানুষের মাঝেও বিরুপ প্রভাব দেখা দিয়েছে।
    টেকনাফ উপকূলীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম জানান,
    নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় জেলেরা শুধু সাগরে মৎস্য আহরন করে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি মাছের চাহিদা মিটিয়ে আসছিল। কিন্তু কোরবানীর ঈদের আগের দিন থেকে বিজিবি সদস্যরা জেলেদের সাগরে নামতে দিচ্ছে না। এতে দরিদ্র জেলে পরিবার গুলোর খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। উপকূলীয় মৎস ঘাটের হাজার জেলে পরিবার এখন নিধারুন কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
    উপজেলা সহকারী মৎস্য অফিসার শহীদুল আলম জানান, টেকনাফে ৭৭৮৩ জন নিবন্ধিত জেলে ও ইঞ্জিন-হস্তচালিত প্রায় দুই হাজার ফিশিং ট্রলার-নৌকা রয়েছে। যারা মূলত সাগর ও নদীতে মাছ শিকারের উপর নির্ভরশীল।

    এব্যাপারে টেকনাফ দুই বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে.কর্ণেল আছাদুদ জামান চৌধুরী জানান, সীমান্তে যে কোন ধরনের অপ্রিতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলেদের সাগরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। যাতে এই পাড় থেকে কোন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে গিয়ে কোন ঘটনা ঘটাতে না পারে আবার সেখান থেকে রোহিঙ্গারা যাতে এদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। তবে এব্যবস্থা সাময়িক বলে জানান তিনি।
    এদিকে জেলেরা সাগরে যেতে না পারায় এর প্রভাবে মাছের বাজারে অগ্নিমূল্য বিরাজ করছে। হিমায়িত মাছ ও খাল-বিল-পুকুরের মাছ দিয়ে বাজারের চাহিদা মেঠানোর চেষ্টা করছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।
    টেকনাফের ব্যবসায়ী এম হামজালাল জানান, টেকনাফের মানুষ সাগর ও নদীর মাছের উপর নির্ভরশীল। এখানে মিঠা পানির মাছ বলতে তেমন একটা নেই। কিন্তু সাগরে জেলেদের উপর নিষেধাজ্ঞায় গত কয়েকদিন যাবৎ বাজারে তাজা কোন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। সামান্য মাছ মিললেও দাম আকাশচুম্বি।
    বুধবার টেকনাফ উপজেলা মাসিক আইন শৃংখলা সভায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন জেলেদের সাগরে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিটি উপকূলীয় মৎস্য ঘাটে ঘাট কমিটি গঠন করে তাদের জিম্মায় জেলেদের সাগরে গমণের প্রস্তাব করেন।

    দেশবিদেশ /৩১ আগস্ট ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ