বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ক্যাম্পে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

সেই লোমহর্ষক স্মৃতি ভূলে যেতে বসেছে রোহিঙ্গারা

শফিক আজাদ,উখিয়া   |   বুধবার, ২৯ মে ২০১৯

সেই লোমহর্ষক স্মৃতি ভূলে যেতে বসেছে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমার সেনা, বিজিপি, নাটালা বাহিনী সহ রাখাইন জনগোষ্ঠির নানান নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ ভূলে যেতে বসেছে সেই নির্যাতনের লোমহর্ষক স্মৃতি। মিয়ানমারের ছেয়ে এখানে রোহিঙ্গারা অনেক স্বাধীন চলাফেরা করার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি ত্রাণের মালামাল বিক্রি করে নগদ টাকা আয় করে অনেকে এখন আত্মস্বাবলম্বী। যার ফলে ক্যাম্পে এবার জমজমাট হয়ে উঠেছে ঈদ বাজার।
সরেজমিনে দেখা যায়, এবারে ঈদ আয়োজনে রোহিঙ্গারা বেশ মেতে উঠেছে। মুখরিত ক্যাম্পের অলিগলিতে যেন অগ্রীম ঈদের হাওয়া বইছে। মনে নিজ দেশেই অবস্থান করছেন রোহিঙ্গারা। মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ব্বোচ্চ খুশির দিন পবিত্র ঈদ পালনের নানা প্রস্তুতি চলছে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে অনেকেই বেশ আমেজের সাথে এই পবিত্র ঈদুল-ফিতরকে বরণ করতে চান। তবে অনেকের মধ্যে সেই উল্লাসতা দেখা যায়নি। রোহিঙ্গা বাজারে বিক্রি হচ্ছে দেশি পণ্য এবং মিয়ানামার থেকে টেকনাফ বন্দর দিয়ে ইমপোর্ট হওয়া চাইনিজ ও বার্মিজ কাপড়-সেন্ডেল সহ ইত্যাদি বিভিন্ন সামগ্রী। সেখান থেকে পাইকারী দরে কিনে এনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাজার দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে বিদেশী পণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে এমন কিছু সামগ্রী যেমন : চাইনিজ ও বার্মিজ কাপড়ের মধ্যে পুরুষদের লুঙ্গি, গেঞ্জি-প্যান্ট, শার্ট, সেন্ডেল সহ ইত্যাদি পণ্য-সামগ্রী। মহিলাদের পোশাকের মধ্যে বার্মিজ থামি, লেহেঙ্গা, চাইনিজ পোশাক, জুতা ও বিভিন্নরকম ডিজাইনের তাঁদের নিজস্ব রীতির কস্টিউমস, কসমেটিক সহ ইত্যাদি দেখাগেছে। রোহিঙ্গা বাচ্চাদের জন্যেও তাঁদের স্বদেশী পোশাক-সেন্ডেল-জুতা সহ মিলছে নানরকম পণ্যের সমাহার।এদিকে দেশী পণ্যও বিক্রি করছেন রোহিঙ্গা দোকানীরা। জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট, মেয়েদের বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রি-পিস ও পাথর লাগানো ফ্রক সহ দেশীও কাপড়চোপড় এবং জুতা-সেন্ডেল, বেল্ট ইত্যাদি সাজগোজের কসমেটিকস বিক্রি করছেন।
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থানের পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছেন। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ভিন্ন আমেজ দেখা গেছে রোহিঙ্গাদের মাঝে।
ময়নারখোনা ক্যাম্পের নুরুল বশর নামের এক রোহিঙ্গা ব্যবসায়ী জানান, শুরুর দিকে এসে ব্যবসা তেমন জমাতে পারেনি আমরা। দোকানপাট তৈরি ও জমি প্রস্তুত করা হয়নি প্রথম দিকে। এখানে এসেই মাথা গুঁজে থেকেছি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়াতে একটু একটু ব্যবসায় হাত দিয়েছি এবং স্থানীয় দোকান থেকে পাইকারী দরে মালামাল ক্রয় করে রোহিঙ্গা বাজারে বিক্রি করছি বর্তমানে। তাই আমরা মনে করছি এবারে ঈদ উৎসবমুখর হতে পারে। কেননা সবাই এখন মুটামুটি দাঁড়িয়েছে একটা জায়গায়। ক্যাম্পের অনেকেই ঈদের বাজার করার সামর্থ রাখে বর্তমানে।”
শফিউল আলম নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন,” আমি গত ২ বছর ধরে দোকান শুরু করেছি। কিন্তু এবার সব চেয়ে বেশি খুশি দেখা যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের মাঝে। এমনকি মঙ্গলবার দোকানে প্রায় ৪০ হাজার টাকার উপরে বিক্রি হয়েছে। পরবর্তী আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে মনে করেন সে।

Comments

comments

Posted ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৯ মে ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com