• শিরোনাম

    সাগরপথে মানব পাচারের চেষ্টা

    সেন্টমার্টিন্স উপকূলে ৩৯ রোহিঙ্গাসহ ৬ দালাল আটক

    মু. জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ | ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

    সেন্টমার্টিন্স উপকূলে ৩৯ রোহিঙ্গাসহ ৬ দালাল আটক

    সাগর পথে ফের মালয়েশিয়া মানবপাচারের চেষ্টা কালে কক্সবাজারের টেকনাফ সেন্টমার্টিন্স দ্বীপের অদূরে বঙ্গোপসাগর থেকে ৩৯ রোহিঙ্গা আটক করেছে কোষ্টর্গাড সদস্যরা। এরমধ্যে ৬ জন দালাল, ১০ নারী, ৯ শিশু ও ১৪ জন পুরুষ রয়েছে। এনিয়ে গত দুই দিনে সাগরপথে মানবপাচারের চেষ্টাকালে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের হাতে উদ্ধার হয়েছে ৪৭ রোহিঙ্গা এবং আটক করা হয়েছে ৬ দালালকে।
    কোস্টগার্ড টেকনাফ ষ্টেশন কমান্ডার লে. ফয়েজুল ইসলাম মন্ডল বলেন, বুধবার (৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে টেকনাফের সেন্টমার্টিন্স দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর থেকে একটি ট্রলার থেকে ৬ দালালকে আটকসহ ৩৯ রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদের ভাষ্য, মানবপাচারকারী চক্র তাদের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচার করছিলেন। এরা সকলে রোহিঙ্গা নাগরিক এবং উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যা¤েপর বাসিন্দা বলে জানায়।
    এদিকে গত ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোররাতে মালয়েশিয়া পাচারের সময় পাচারকারীরা থাইল্যান্ড সীমান্ত বলে ১৪ রোহিঙ্গাকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চরে নামিয়ে দিয়েছিল। পরে বর্ডার গার্ড ব্যাটলিয়ন (বিজিবি) তাদের উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ৫ জন রোহিঙ্গা যুবতীও ছিল।
    গত বছরের আগষ্ট মাসে মিয়ানমার রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতার পর প্রায় ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঠাঁই হয় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় ১৯ ক্যাম্পে। ক্যাম্পে বসবাসরত এসব রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে হঠাৎ ক্যাম্প ভিত্তিক সক্রিয় হয়ে ওঠেছে একাধিক দালালচক্র। এরা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
    উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে টেকনাফের সীমান্ত দিয়ে সাগর পথে ট্রলারে করে প্রথম মানবপাচার শুরু হয়েছিল। এরপর দালালচক্র অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার স্থানীয় ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে সাগর পথে ট্রলারযোগে মালয়েশিয়া পাচার করে। তবে সেসময় কিছু লোক মালয়েশিয়া পৌঁছলেও সাগরপথে ট্রলার ডুবিতে বহু লোকের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছিল। এছাড়া টাকা আদায়ের নামে শতশত মানুষকে থাইল্যান্ডের গহীন জঙ্গলে আটকে রেখে পৈশাচিক নির্যাতনও চালিয়েছিল দালাল চক্রের সদস্যরা। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক নারী পুরুষ।
    টেকনাফ সাগর উপকূল দিয়ে সাগর পথে মানবপাচার অপ্রতিরোধ্য হয়ে গত ২০১৫ সাল চলমান ছিল। সেই বছর টেকনাফ থানা পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে এলাকার শীর্ষ মানবপাচারকারী শাহপরীর দ্বীপের ধলু হোছন, কাটাবনিয়ার জাহাঙ্গীর ও জাফর আলম নিহত হলে অন্যান্য মানবপাচারকারীরা গা ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। এছাড়া মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেক দালালের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল ওই সময়ে। এপর থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সাগরপথে মানবপাচার।
    এদিকে সাগরপথে মানবপাচার বন্ধ হওয়ার প্রায় তিন বছরের মাথায় আবারো স্থানীয় ও রোহিঙ্গা চক্র মালয়েশিয়া পাচারের নামে সাগর পথে পাচারের চেষ্টা করছে। এ সব চক্রের ফাঁদে পড়ে গত দুইদিনে ৪৭ রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ৬ দালালকে আটক করা হয়েছে। আটক দালালদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারে কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনী ব্যবস্থার নেওয়ার দাবি করছেন স্থানীয়রা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ