• শিরোনাম

    *সাগরের পানিতে দূষণ মিলেনি*কাছিম পাঠানো হয়েছে ময়না তদন্তে

    সৈকতের বর্জ্য নিয়ে তদন্ত কমিটি

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ১৪ জুলাই ২০২০ | ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

    সৈকতের বর্জ্য নিয়ে তদন্ত কমিটি

    সামুদ্রিক জোয়ারের পানিতে কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্যরে ঘটনা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন গতকাল সোমবার ৭ সদস্যের এ কমিটি গঠণ করে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারকে প্রধান করে গঠিত কমিটি জোয়ারে আকস্মিক বর্জ্য ভেসে আসার উৎসের সন্ধান করবে। সেই সাথে সাগরে পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও কমিটি খুঁজে দেখবে।
    এদিকে সৈকতে আসা বর্জ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গতরাতে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানিয়েছেন, সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে। তবে এনজিওদের নিয়ে ব্যাপক কর্মসুচি নিয়ে নামা হবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে।
    আষাঢের এমন ঘোর বর্ষার সময় কাছিম ও সাপ সহ সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু নিয়ে সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কাছিমের মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করার জন্য গতকালই ভেসে আসা কাছিম উদ্ধার করে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ^বিদ্যালয়ের ল্যাবে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের পরিবেশ অধিদফতরের উপ পরিচালক ও জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব শেখ মোঃ নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, ল্যাবে ময়না তদন্তের পর আশা করা যাচ্ছে যে, অন্তত সামুদ্রিক প্রাণীটির মৃত্যুর কারণ জানা যেতে পারে।
    এদিকে জোয়ারের পানিতে বর্জ্য ভেসে আসার পরিমাণ কমে গেলেও মৃত এবং অর্ধমৃত সামুদ্রিক কাছিম ও সামুদ্রিক সাপ ভেসে আসা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবারও বহু সংখ্যক কাছিম সৈকতে ভেসে এসেছে। সাগরে গত ২০ মে থেকে যেখানে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে সেখানে গভীর সাগরের তলদেশের প্রাণী কাছিম সহ সামুদ্রিক সাপ ভেসে আসার বিষয়টি সামুদ্রিক বিজ্ঞানীদেরও বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। কি কারনে এমন অসময়ে কাছিম মারা যাচ্ছে তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরা।

    কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের (এফআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, এ সময়টা সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন সময় নয়। কাছিম ডিম দিতে তীরে উঠে আসে ডিসেম্বর-জানুয়ারির শীত মৌসুমে। বর্জ্যের কারনে আকস্মিক সাগরের পানি দূষণের শিকার হয়েছে কিনা তাও গতকাল সোমবার তাৎক্ষনিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি জানান, কক্সবাজারস্থ গবেষণাগারের ল্যাবে গতকালই সাগরের পানি পরীক্ষা করে স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। তবুও আরো পরীক্ষা করার জন্য ঢাকায় সামুদ্রিক জোয়ারের পানি পাঠানোর কথাও জানান তিনি।
    সামুদ্রিক জোয়ারের পানিতে গত তিন দিন ধরে ভেসে আসা বর্জ্য নিয়ে লোকজনের সন্দেহেরও যেন শেষ নেই। নানা জনের নানা কথা রয়েছে এ প্রসঙ্গে। অনেকেরই ধারণা, বর্ষার প্রথম বর্ষণে উজানের পাহাড়ী ঢলের সাথে কক্সবাজার-চট্টগ্রামের বহু নদী ও খাল দিয়ে সাগরে ভেসে যায় টন টন বর্জ্য। বলা হচ্ছে রেজু, বাঁকখালী, মাতামুহুরি সহ অনেক নদী ও খাল দিয়ে সাগরে গড়িয়ে পড়ে বর্জ্য। এসব খাল-নদী দিয়ে সাগরে নেমে পড়া বর্জ্যরেই অংশ বিশেষ। আবার এসবের দ্বিমতও রয়েছে। বলা হচ্ছে, ভেসে আসা বর্জ্যওে বোতল ও প্লাষ্টিক সহ অন্যান্য সামগ্রী দেশীয় ব্যবহারের নয়।
    কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ সামুদ্রিক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল হকের নেতৃত্বে তিনজনের একটি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার দল গতকাল দিনব্যাপি সৈকত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তাদের প্রাথমিক ধারণা হচ্ছে যে, সাগরে নিক্ষিপ্ত বর্জ্যগুলো জাল দিয়ে আটকানো ছিল। বর্ষার এমন সময়ে সাগরের বৈরি আবহাওয়ায় হয়তোবা এসব বর্জ্যের আটকানো জাল সহ ভাসতে ভাসতে কক্সবাজারের সৈকতে এসে যায়। আর সাগরে বর্জ্য বোঝাই জালের বিশাল থলির সাথে সামুদ্রিক কাছিম ও সাপ আটকা পড়ে ভেসে আসে। ভেসে আসা অনেকগুলো কাছিম জালে আটকানোর মত আহতও দেখতে পাওয়া গেছে।

    অপরদিকে সৈকতের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় গত তিনদিনের ভেসে আসা বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও এগিয়ে চলছে। সরকারি ও পরিবেশবাদী সংগটনগুলোর ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে নেয়া হচ্ছে সৈকত পরিচ্ছন্নতার কাজ। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইমরান জাহিদ খান জানান, কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে শুরু করে দরিয়ানগর এবং হিমছড়ি পর্যন্ত এলাকায় পরিচছন্নতার কাজ চালানো হচ্ছে। সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মী, পরিবেশবাদী সংগটনের কর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় দরিদ্র লাকড়ী কুঁড়োনীর বহু সংখ্যক নারী-পুরুষের দলও সৈকতের বর্জ্য তুলে ফেলছে।
    জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জানান, গতকাল সকাল থেকে বর্ষণের কারনে সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ব্যাহত হলেও বিকালে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় ২৫ জনের একটি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর দল কেবল মাত্র দরিয়ানগর সৈকত থেকে ২৬ বস্তা বর্জ্য কুঁড়িয়ে তুলে নেয়। ওদিকে হিমছড়ি এলাকা থেকে ভাঙ্গারী ও লাকড়ি কুঁড়িয়ে দলের লোকজন গতকাল এক দিনেই কয়েক টন বর্জ্য সংগ্রহ কওে নিয়ে গেছে।

    পরিবেশবাদী সংগটনের কর্মীরা জানিয়েছেন, গত দুইদিনে কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক মৃত কাছিম ভেসে এসেছে। সেই সাথে আহত এবং আধমরা াবস্থায় উদ্ধার করা কাছিমের সংখ্যা হবে শতাধিক। গতকালও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতে ভেসে আসা কমপক্ষে ২০ টি কাছিম উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত কাছিমগুলোকে নৌযান নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা গভীর সাগরে পানিতে ছেড়ে দিয়ে আসছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ