সোমবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সৈকতে বস্তির মতো ঝুপড়ি দোকান, শ্রীহীন রূপালী বালিয়াড়ি 

তারেকুর রহমান   |   বুধবার, ০২ জুন ২০২১

সৈকতে বস্তির মতো ঝুপড়ি দোকান,  শ্রীহীন রূপালী বালিয়াড়ি 

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এখন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। সৈকতের বালিতে আড়া-আড়ি ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ঝুপড়ি। ফলে সৈকত হারাচ্ছে সাগরলতা ও বৈচিত্রময় সৌন্দর্য।

বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এসে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে চোখ দিলেই বস্তির মতো মনে হবে। চিকচিক বালুর চরে চার শতাধিক ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ কিংবা ভরা পূর্ণিমার তিথির জোয়ারের কারণে সমুদ্রের পানি তীরের আরো কাছে চলে আসায় ঝুপড়িগুলো সৈকতে বাঁধের মতো দেখাচ্ছে। পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের অনেক আন্দোলন-আকুতির পরও  অপসারণ করা হয়নি ঝুপড়ি ঘরগুলো। ফলে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে ভ্রমণ পিপসুদের আকর্ষণীয় সমুদ্রসৈকতটি। ময়লা আর্বজনায় নাকালে গোটা সৈকত দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছে দর্শনার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে চার শতাধিক অবৈধ ঝুপড়ি ভ্রাম্যমাণ দোকান নির্মাণ করে বছরে বছরে প্রত্যেক দোকান থেকে ভাড়া নিচ্ছে প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অথচ রাষ্ট্রপ্রতির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সমুদ্র সৈকতকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে তীরের ৩শ’ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না মর্মে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও তা না মেনে সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করে ঝুপড়ি তৈরী করেছে দখলবাজ সিন্ডিকেট। ওইসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) জনস্বার্থে দায়েরকৃত রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপ্রতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেন। একই সাথে এইসব মার্কেট নির্মাণ কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ও সংবিধান পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে রুলও জারী করেন আদালত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) এর কক্সবাজার জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘ইসিএ এলাকায় সব ধরণের  স্থাপনা তৈরীর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা না মেনে সৈকতে ঝুপড়ি নির্মাণ করে পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে দখলবাজরা। অথচ সব স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য হাই কোর্টের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদ করা হচ্ছেনা।  এছাড়া ঝুপড়িগুলোর বর্জ্য ও লোকজনের মলমূত্র সৈকতের বালিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। অনেক আগে থেকে আমরা সৈকত দখলমুক্ত করার আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু এতে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসন জড়িত থাকায় আমাদের আন্দোলন সফল হচ্ছে না।’

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘সুন্দর সমুদ্রসৈকতে ঝুপড়ি নির্মাণ করে অসুন্দর করার প্রতিযোগীতায় নেমেছে দখলবাজরা। কিন্তু প্রকৃতি ঠিকই প্রতিশোধ নিচ্ছে। সেটা তারা বুঝে না। সৈকতের শ্রীহীন এসব ঝুপড়ি ও স্থাপনা পর্যটকদের আকর্ষণ করছে না বরং বিরক্ত করছে। এমন হলে কক্সবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে দেশী-বিদেশী পর্যটক। যা দেশের পর্যটন ও রাজস্ব খাতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃতির নিয়ামক সৈকতকে সুন্দর করতে এসব ঝুপড়ি ও স্থাপনা অপসারণ আবশ্যক। অন্যথায় পরিবেশের বিরাট ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে।’

আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রসৈকত থেকে বস্তির মতো ঝুপড়িগুলো নিরসন করে উন্মুক্ত সৈকতের জন্য আন্দোলন ও গলা ফাটিয়ে আসছি। সৈকতে নেমেই  পর্যটকদের চোখে পড়ছে বস্তি। তখন তাদের মন ভালো থাকে না। কিন্তু কে শুনে কার কথা। দখলবাজরা প্রভাবশালী হওয়ায় কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সুন্দর সৈকতকে শ্রীহীন করে তোলেছে তারা। আমরা এখনো চাই- সৈকতের হকার্সদের অন্যত্রে পুনবার্সন করে সৈকতের পুরোনো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হোক। দেশী-বিদেশী পর্যটকরা  সৈকতে এসে আনন্দ উপভোগ করুক।’বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) এর কক্সবাজার জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজারে আমরা যারা পরিবেশাবদী সংগঠনে কাজ করি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবী প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় যেন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না হয়। যারা সৈকতে ঝুপড়ি নিমার্ণ করে রাজস্ব আদায় করছে তাদের বুঝা উচিত দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যহানি হচ্ছে। পর্যটকদের সৈকতে নামারও বাধাসৃষ্টি করছে এই ঝুপড়িগুলো। আমরা চাই ঝুপড়ি গুলো উচ্ছেদ করে হকারদের অন্যত্রে পুনবার্সন করে সমুদ্রসৈকতকে উন্মুক্ত করে সৌন্দর্যরূপ দান করা হোক।’

সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার কারণে বার বার শ্রীহীন হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। বীচ-ম্যানেজমেন্ট কিংবা সৈকত সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা মুখে সুন্দর সুন্দর কথা বললেও কাজের কাজ কিছুই করছেন না বলে অভিযোগ তুলছেন সচেতন মহল।এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদের মুঠোফোন রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

 

আদেবি/তারেকুর রহমান

Comments

comments

Posted ১০:২১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০২ জুন ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(333 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com