সোমবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সৈকতে মানুষের ভিড়

তারেকুর রহমান   |   বুধবার, ২৬ মে ২০২১

সৈকতে মানুষের ভিড়

মহামারী করোনার এই দুঃসময়ে সমুদ্রসৈকতে দর্শনার্থী নামার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে মঙ্গলবার (২৫ মে) কবিতা চত্বর সৈকতে (বীচ পয়েন্টে) হঠাৎ ভিড় করেছে লোকজন। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩নং সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলার পরও মানুষ পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সৈকতের ওই পয়েন্টে ভিড় করছে।

হঠাৎ করেই জেলায় বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্তের হার। কক্সবাজার ল্যাবে প্রতিদিন শনাক্তের সংখ্যা যেন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর মধ্যে সমুদ্রসৈকতে পর্যটক-দর্শনার্থীসহ সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। কিন্তু সৈকতের কিছু কিছু পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশের কঠোর নজরদারি থাকলেও কবিতা চত্বর পয়েন্টে কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় নি। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অনেকেই সৈকতে প্রবেশ করছেন। জিও ব্যাগের (বালির বস্তার) উপর আড়া-আড়িভাবে বসে সময় পার করছেন স্থানীয় দর্শনার্থীসহ অনেক পর্যটক।

কায়সার হামিদ নামের এক দর্শনার্থী জানান, ‘আর কত বসে থাকবো বাড়িতে? আমাদেরও রিল্যাক্সের দরকার আছে। বাড়ির পাশেই সমুদ্রসৈকত। শুনেছি এই পয়েন্ট খোলা তাই বিকেল বেলায় হাঁটতে এলাম।’

সোহেল আরমান নামের আরেক যুবক বলেন, ‘সৈকতের অন্যান্য পয়েন্টে বীচকর্মী ও পুলিশের টহল রয়েছে। তারা সৈকতে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। বন্ধুর কাছে খবর পেলাম কবিতা চত্বর পয়েন্ট খোলা আছে। এখানে পুলিশের কোনো কঠোরতা নেই। তাই এদিকে চলে আসলাম।’

তবে সন্ধ্যা যখন ঘনিয়ে এলো তখন সৈকত থেকে ট্যুরিস্ট পুলিশের কয়েকজন সদস্য এসে দর্শনার্থীদের তুলে দিতে দেখা যায়। কবিতা চত্বর পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা ট্যুরিস্ট পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর আজাদ জানান, ‘আমাদের চোখ ফাঁিক দিয়ে দর্শনার্থীরা সৈকতে প্রবেশ করেছে। যখন দেখি সৈকতে মানুষের ভিড় বাড়ছে তখন আমরা সকলকে সৈকত থেকে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করি।’

ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর শাকের আহমদ জানান, ‘সমুদ্রসৈকতের সব পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশের কঠোর নজরদারি ও তৎপরতা রয়েছে। কেউ চাইলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সৈকতে প্রবেশ করতে পারবে না। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর কারণে সমুদ্রের পানির অবস্থা দেখার জন্য হয়তো কবিতা চত্বর থেকে লোকজন সৈকতে প্রবেশ করেছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সৈকতে প্রবেশের সেই সুযোগ আর হবে না। সমদ্রসৈকত খুলে দেয়ার ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেয় নি সরকার। যার কারণে পুরো সমদ্রসৈকতে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে নিষেধাজ্ঞাও জোরদার করছি আমরা। এরই মধ্যে কোনো স্থানীয় দর্শনার্থী সৈকত এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলে তাদের আমরা বুঝিয়ে সৈকতে নামতে নিষেধ করছি, যারা নামছে তাদের তুলে দিচ্ছি।’

শাকের আহমদ আরও জানান, ‘কেউ যেন সামাজিক দূরত্ব ভঙ্গ করে সমদ্রসৈকতে জড়ো হতে না পারে সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। যদি সৈকত খোলার ব্যাপারে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত আসে তাহলে পর্যটক নগরী কক্সবাজারে পর্যটক আগমন ও আকর্ষণের জন্য যা যা করণীয় সবকিছু করবো আমরা।’

 

আদেবি/তারেকুর রহমান

Comments

comments

Posted ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৬ মে ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(333 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com