মঙ্গলবার ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সৌদির রাস্তার গাড়ির চালকের আসনে নারী

দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক   |   রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮

সৌদির রাস্তার গাড়ির চালকের আসনে নারী

নিষেধাজ্ঞা পেছনে ফেলে গতকাল শনিবার মধ্যরাতে চালকের আসনে বসে গাড়ি চালিয়েছেন সৌদি নারীরা। এই দিনটির জন্য নারী অধিকারকর্মীদের লড়তে হয়েছে প্রায় ৩০ বছর। তিন দশকের লড়াইয়ে অর্জিত এই অধিকার নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দেবে বলে মনে করেন দেশটির প্রতিষ্ঠিত নারীরা।
২৩ বছরের মাজদুলিন আল-আতিক জীবনে প্রথমবারের মতো তাঁর কালো রঙের লেক্সাস নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন রাজধানী রিয়াদের রাস্তায়। বাঁধভাঙা আনন্দ ভাসছিলেন তিনি। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘এ এক অদ্ভুত অনুভূতি। আমি খুব খুশি…এখন এই মুহূর্তে গাড়ি চালাতে পারে নিজেকে খুব গর্বিত মনে হচ্ছে।’
গতকাল পর্যন্ত কয়েক দশক ধরে সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। কিন্তু তরুণ মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হয়ে তাঁর দেশকে আধুনিক করতে নানামুখী সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেন। এরই অংশ হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাদশাহ নারীদের গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়াসংক্রান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর নারীর গাড়ি চালানোর অধিকারের পথ সুগম হয়।
গতকাল মধ্যরাতে নারীরা পূর্বাঞ্চলীয় শহর খোবারের প্রধান সড়কে চালকের আসনে বসে গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়িয়েছেন। প্রথম দিকে যেসব নারী ড্রাইভিংয়ের লাইসেন্স পেয়েছেন, তাঁদের একজন জেদ্দার ৪৭ বছর বয়সী মনোবিজ্ঞানী সামিরা আল-ঘামদি। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত। এটি আমাদের জীবনকে পাল্টে দেবে।’
যেসব নারীর এরই মধ্যে গাড়ির চালনার বিদেশি লাইসেন্স রয়েছে, তাঁরা চলতি মাসের শুরুর দিকে তা পরিবর্তন করে নিজ দেশের লাইসেন্স নিতে শুরু করেছেন। তাই সংখ্যাটা এখনো কম। তবে অনেকেই এরই মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোয় গাড়ি চালনা শিখছেন। আশা করা হচ্ছে, ২০২০ সাল নাগাদ নারী চালকের সংখ্যা ৩০ লাখ হবে।
তবে এখনো অনেকে রক্ষণশীল আত্মীয়স্বজনের বাধার মুখে পড়ছেন। অনেকে আবার ব্যক্তিগত চালক দিয়ে গাড়ি চালাতে অভ্যস্ত। কারণ, তাঁরা মনে করছেন, ব্যস্ত মহাসড়কে তাঁরা গাড়ি চালাতে পারবেন না।

২২ বছরের নারী বিক্রয়কর্মী ফায়জা আল-সামারি বলেন, ‘আমি গাড়ি চালাতে চাই না। আমি চাই আমাকে রাজকন্যার মতো কেউ গাড়ির দরজা খুলে দেবে। আমি যেখানে যেত চাই, সেখানে নিয়ে যাবে।’
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নারী ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ হবে তা নিশ্চিত নয়।
অনেকে আবার এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর কী পরিস্থিতি দাঁড়ায়, তা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কারণে সৌদি পরিবারগুলোর এখন বেতনভোগী চালকের পেছনে শত শত ডলার খরচ করতে হবে না। নারীরা এখন আরও কর্মমুখী হবেন। ফলে দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
অটো কোম্পানিগুলো এই নিষেধাজ্ঞার পরিসমাপ্তি নিয়ে নাটকীয় বিজ্ঞাপন বানাচ্ছে। বেসরকারি গ্যারেজগুলোয় নারীদের জন্য গোলাপি চিহ্নসংবলিত জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
অনেক সৌদি নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি উদ্‌যাপন করলেও অনেকে আবার সমাজে এর প্রভাবকে কেমন পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন টুইটারে লিখেছেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে গাড়ি চালাতে দিতে চান না। লিখেছেন, ‘যদি সে গাড়ি চালাতে চায়, তাহলে সে তারা বাবার কাছে চলে যেতে পারে। এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সে লরি চালাতে পারে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা #সি-ওনট-ড্রাইভ-এর ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।’
নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার চেয়ে প্রথম রাস্তায় নামার ঘটনাটি ১৯৯০ সালের ৬ নভেম্বর ঘটে। ওই দিন ৪০ জনের বেশি সৌদি নারী নিষেধাজ্ঞা ভেঙে রিয়াদে জনসমক্ষে গাড়ি নিয়ে নামেন। তবে তাঁদের আটক করে এক দিন কারাগারে রাখা হয়।
এরপর ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে গাড়ি চালানোর অধিকার চেয়ে সহস্রাধিক নারী বাদশাহ আবদুল্লাহর কাছে আবেদন করেন। পরের বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ওয়াজেহা আল-হুয়াইদার নিজের গাড়ি চালানোর ভিডিও ইউটিউবে পোস্ট করেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আরব বসন্ত শুরু হলে আশায় বুক বাঁধেন এখানকার নারীরা। ২০১১ সালের ১৭ জুন একদল নারী অধিকারকর্মী ফেসবুকে ‘উইম্যানটুড্রাইভ’ নামে প্রচার শুরু করেন। দুই সপ্তাহে অন্তত ৭০ জন নারী গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামলে তাঁদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

Comments

comments

Posted ১০:০৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com