• শিরোনাম

    পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে ঃ তীব্র ক্ষোভ

    স্টেডিয়াম চত্বর ও ঈদগাহ ময়দান সিএনজি টার্মিনাল!

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ১:২২ পূর্বাহ্ণ

    স্টেডিয়াম চত্বর ও ঈদগাহ ময়দান সিএনজি টার্মিনাল!

    স্টেডিয়াম সড়কে সিএনজি টার্মিনালে আটকে পড়া হাসপাতালগামী মুর্মূষ রোগী এরকম ঘটনা নিত্য-দিনের।

    কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম সম্মুখ চত্বর ও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের আশ-পাশ এলাকা দখলে নিয়েছে শত শত ফোর স্ট্রোক সিএনজি। পার্কিয়ের নামে বিগত দু’মাস ধরে প্রত্যহ সকাল থেকে রাত অবধি এসব সিএনজি গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় অবস্থান করছে। ফলে প্রত্যহ কক্সবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাশর্^বর্তী পৌর-প্রিপ্যারটরি উচ্চ বিদ্যালয়, প্রভাতি শিশু শিক্ষা নিকেতনের শিশু শিক্ষার্থীদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজন এবং কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে প্রতিদিন প্র্যাকটিসে আসা ফুটবল, ক্রিকেটার, উশু, তায়নেকোয়ানডো ও কারাতে খেলোয়াড়দের নানাবিদ অসুবিধা হচ্ছে।

    পাশাপাশি এই সিএনজি পাকিংকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটিতে গড়ে উঠেছে সংঘব্ধ ছিনতাইকারী চক্র, ইভটিজার, পকেটমার ও খুচরা ইয়াবা কারবারী কক্সবাজার ট্রাফিক বিভাগ ও পৌরসভার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র এই ফোর স্ট্রোক সিএনজি পার্কিং থেকে গত দু’মাসে চাঁদা হিসেবে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লাখ টাকা। শুধু তাই নয়-প্রভাবশালী চক্রটির ইন্ধনে পবিত্র কোরবানী ঈদের পর থেকে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের অভ্যন্তরেই দু’টি অবৈধ দোকান খুলে বসেছে আবু বকর সিদ্দিক ও আমান উল্লাহ নামের দু’ব্যক্তি।

    সরেজমিন ঘুরে এসে জানা যায়, বিগত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঈদ মাঠের সীমানা পিলারে একটি সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়। সাইনবোর্ড লেখা রয়েছে- ফোর স্ট্রোক সিএনজি পার্কিং, স্থান কক্সবাজার স্টেডিয়ামস্থ ঈদগাহ ময়দান। উখিয়া উপজেলার ২০টি সিএনজি গাড়ি। আদেশ ক্রমে ট্রাফিক বিভাগ কক্সবাজার। পরিচালনায় ১২-৩২ সিএনজি সমিতি। সূত্র জানায়-ট্রাফিক পুলিশের এস.পি সার্কেল বাবুল ভৌমিক উখিয়ার ২০টি সিএনজি পার্কিংয়ের জন্য স্থানটি বেছে নেন। কিন্তু সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়-প্রত্যহ উখিয়ার কোটবাজার, সোনারপাড়া, শামলাপুর, ইনানী, ভালুকিয়া, মরিচ্যা, থাইনখালী, পালংখালী থেকে কক্সবাজার শহরে যাতায়তরত শত শত ফোর স্ট্রোক সিএনজির বিশাল টার্মিনাল এখন শহরবাসীর জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানটি।

    মূলতঃ সিএনজি পার্কিংয়ের নাম দিয়ে অসাধু চক্রটি খুলে বসেছে সিএনজি টার্মিনাল। যার কারণে পাশর্^বর্তী গুরুত্বপূর্ণ চারটি শিক্ষালয়, জেলার সেরা চিকিৎসালয়, স্টেডিয়াম এখন সিএনজি টার্মিনালে অবরুদ্ধ। এর সাথে পাল্লা দিয়ে রাতারাতি বসে গেছে ঝুঁপড়ি ঘরে চনামুড়ির দোকান। এসব দোকানে পাশ^বর্তী স্কুলের ছাত্রী, হাসপাতালের রোগীর সঙ্গী ও প্রমীলা ক্রীড়াবিদরা নাস্তা করতে গেলেই পড়তে হচ্ছে সংঘবদ্ধ ইভটিজারদের কবলে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অপবিত্রতা। এসব সিএনজির অসংখ্য যাত্রী সাধারণ, চালকরা এখন উন্মুক্ত প্রশ্রাব পায়খানার স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে ঈদগাহ মাঠ ও জামে মসজিদের উঠোন ও ড্রেনকে। যার কারণে উন্মুক্ত পায়খানা-প্রশ্রাবের দূ-র্গন্ধে এতদিনের নিঃশ^াস নেয়ার পবিত্র জায়গাটির পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

    সূত্র আরও জানায়- প্রতিটি টিপ ভর্তি করতে প্রত্যেক সিএনজি ড্রাইভারকে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। উখিয়ার সিএনজি চালক আবুল কালাম জানান- প্রতিদিন পৌরসভার ট্যাক্স ১৫ টাকা এবং প্রতিটি টিপ ভর্তি লাইন খরচ ১০ টাকা। চাঁদার এ কাজটি সমাধান করতে সিএনজি টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাবশালী চক্রটি নিয়োগ দিয়েছে সন্ত্রাসী টাইপের দু’ব্যক্তিকে। আর প্রত্যহ চাঁদা আদায়ের একটি ভাগ যায় কক্সবাজার ট্রাফিক বিভাগে, অন্যটি নিয়ন্ত্রণকারীরা পকেটস্থ করে।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আলম জানান-প্রত্যেক সুস্থ প্রশাসন স্টেডিয়ামের সম্মুখ চত্বর নির্জঞ্জাট রাগে। অথচ কক্সবাজারে এর বিপরীত। স্টেডিয়াম গেরে সামনে সিএনজি টার্মিনাল খুলে বসা মেনে নেয়া যায়না।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ