• শিরোনাম

    করোনা ঝুঁকিতে সেন্টমার্টিন

    স্থলবন্দর ও করিডোর বন্ধের দাবি

    নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ | ১৯ মার্চ ২০২০ | ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

    স্থলবন্দর ও করিডোর বন্ধের দাবি

    অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এই দ্বীপে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ভ্রমণে যাচ্ছে প্রতিদিন । তাছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর অনেকেই পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাচ্ছে দ্বীপে। কিন্তু বিশ্ব ব্যাপি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক ও ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছে দ্বীপবাসি। ফলে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহি জাহাজ চলাচল বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশবাদি ও স্থানীয়রা।
    দেশে করোনা ভাইরাস রোধে এখনিই দ্বীপে পর্যটক বন্ধের দাবি জানিয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জেলার হাজারো মানুষ দ্বীপে ভ্রমণে আসছে প্রতিদিন। কে করোনায় আক্রান্ত, কে আক্রান্ত না বুঝা খুব মুশকিল। তাছাড়া ইতি মধ্যে বিশ্ব ব্যাপি এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে দিন দিন। এখানে ভ্রমণে আসা লোকজনের মধ্যে এই ভাইরাস নেই, সেইটা নিশ্চিত কিভাবে হয়?
    তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোন করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি দ্বীপে ভ্রমণে আসে, তাহলে অবস্থা খুব খারাপ হবে। কেননা দ্বীপে তেমন চিকিৎসার কোন ব্যবস্থাও নেই।’

    উপজেলা প্রশাসন জানায়, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী পাচঁটি জাহাজের চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- বে-ক্রুজ, আটলান্টিক, এমভি ফারহান, কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রুজ এন্ড ডায়ন। এর মধ্যে (১৮ মার্চ) বুধবার সকালে চারটি জাহাজে করে হাজারো পর্যটক সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে যায়। এর আগে গত বছর প্রহেলা নভেম্বর থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহি জাহাজ চলাচল শুরু হয়।
    এলাকাবাসী জানান, ‘দ্বীপে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ রাখা অতি জরুরী। তাছাড়া সেখানে সমাগম হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ ভ্রমণে যাচ্ছে। এই মূর্হতে সরকারের কাছে দাবি টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহি জাহাজ চলাচল বন্ধ করার।’
    টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কোন নির্দেশনা না পাওয়ায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহি জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে দ্বীপে জনসমাগম না করতে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে।
    তবে সেন্টমার্টিন অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল।

    তিনি বলেন, ‘যেহেতু দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ গাদাগাদি করে পর্যটকবাহি জাহাজে করে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে যাচ্ছে। তাই দ্বীপের পর্যটক ভ্রমণে সীমিত করা দরকার। কেননা করোনা রোধে জনসমাগম নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’
    সচেতনমহল জানান, ‘সরকারের উচিত কক্সবাজার জেলার মানুষকে বাচাঁতে, এখনিই টেকনাফ সীমান্তের স্থলবন্দর, করিডোর বন্ধ করে দেওয়া। পাশাপাশি সেন্টমার্টিনে বিভিন্ন জেলার মানুষ জড়ো হয়, তাই দ্বীপে পর্যটক নিষেধাজ্ঞা করাও দরকার। না পরিস্থিতি আরও অবনতি দিকে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।
    কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে পর্যটক বন্ধের কোন নির্দেশ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে দ্বীপে সৈকতে যাতে কোন মানুষ সমাগম না সে-ব্যাপারে নিধেষজ্ঞা রয়েছে। তাছাড়া সেখানে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বীচ কর্মীরা কাজ করছে।
    এদিকে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় আতংক বেড়েছে বাংলাদেশেও। এরইমধ্যে দেশে আক্রান্ত হয়েছে ১৪ জন। মারা গেছেন একজন।
    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ