• শিরোনাম

    স্পেন প্রবাসী বদরখালীর সন্তান আবদুল মালেক জানান স্পেনে করোনার ভয়াবহতা !

    | ২৮ মার্চ ২০২০ | ১০:১৮ অপরাহ্ণ

    স্পেন প্রবাসী বদরখালীর সন্তান আবদুল মালেক জানান স্পেনে করোনার ভয়াবহতা !

    পৃথিবীজুড়ে করোনায় আক্রান্ত দেশের মধ্যে ইতালিতে সবচেয়ে বেশী মানুষের প্রাণহানী হয়েছে । ২য় যে দেশটি করোনা আক্রান্তে প্রাণহানী হয়েছে সেটি হচ্ছে স্পেন । স্পেনে গত ২৪ ঘন্টায় পাঁচশর অধিক লোকের মৃত্য হয়েছে , যেখানে ৬৫ বছর বয়সী আবুল হোসেন নামে একজন বাঙ্গালী রয়েছে । সর্বশেষ স্পেনে ৫৬ হাজারের অধিক লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে । দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ । স্পেন প্রবাসী আবদুল মালেক , তিনি প্রবাসী বাঙ্গালীদের সর্বশেষ অবস্থার কথা উল্লেখ করে পেকুয়া.টিভি বাংলাকে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা বদরখালী এলাকার সন্তান আবদুল মালেক কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন । গত জানুয়ারি ২০১৮ থেকে স্পেনের মাদ্রিদ শহরে পরিবার নিয়ে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরীরত। আবদুল মালেক দম্পতির এক মাস বয়সি এক ফুটফুটে সন্তান রয়েছে। স্পেন প্রবাসী আবদুল মালেকের পাঠানো ভিডিও বার্তাটি দর্শদের জন্য  হুবহ তুলে ধরলাম।

    স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে পরিবার নিয়ে বসবাস করি। এখানে আমাদের বাঙ্গালীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঙ্গালী বসবাস করে বার্সেলোনায়,আর এর মধ্যে মাদ্রিদে আমরা যেকজন বাঙ্গাালী বসবাস করি তার মধ্যে একটা এপিক আছে লাভারব্রীজ যাকে বাঙ্গালীর অধ্যোশিত এলাকা বলা হয়। এই লাভারব্রীজে বেশির ভাগ বাঙ্গালী এখানে বসবাস করে , মাদ্রিদে এখানে করোনা পরিস্থিতির শুরুর দিকে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে লাভারব্রীজে আট জন বাঙ্গালীর করোনা রোগ ধরা পড়ে। তার এই পরিপ্রেক্ষিতে আজ এই পর্যন্ত প্রায় ৩৩ থেকে ৩৪ জন বাঙ্গালীর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে। কোন বাঙ্গালী হিসেবে স্পেনে আজ প্রথম একজন মারা গেছে। আবুল হোসেন নামের একজন বাঙ্গালী উনার বয়স ৬৫ বছর । এর মধ্যে স্পেনের অবস্থা দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে আজকে পর্যন্ত স্পেনে ৫৬ হাজারের উর্ধ্বে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে ৪ হাজারের অধিক রোগী মারা গিয়েছে। প্রতিদিন চারশ পাঁচশলোক মারা যাচ্ছে এবং স্পেনে লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে ।জরুরী অবস্থা ঘোষনা করার আজ ১৪তম দিন অতিবাহিত হচ্ছে। স্পেন সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় টহলরত আছে । স্পেন সেনাবাহিনী বিভিন্ন জায়গায় লোকালয়ে টহল দিয়ে দেখতে পান অনেক ঘরের মধ্যে বৃদ্ধ লোক মরে পড়ে আছে। এরকম অনেক বৃদ্ধলোকের লাশ পাওয়া গেছে । যারা ঘরের মধ্যে যারা একা থাকত । এভাবে চলতেছে এখানকার অবস্থা । আমাদের বাঙ্গালীদের মধ্যে যেকজন আক্রান্ত হয়েছে তার মধ্যে অনেকের অবস্থা আশংকাজনক ,বাকিরা মোটামুটি আছেন। আজকে একজন মারা গেলেন। আজকে যিনি মারা গেলেন তিনি ঘরের মধ্যেই মারা গিয়েছেন। ঘরের মধ্যে তিনি খুব সম্ভবত কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন । আজকে ভোর রাতে তিনি মারা গেছেন । বাকি আক্রান্ত বাঙ্গালীরা হাসপাতালে । অন্যান্য বাঙ্গালী যারা আছেন তারা নিজেদের মত আছে । আজকে চৌদ্দদিন যাবৎ গৃহবন্দী হয়ে আছি । সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন আর বেশি কষ্টের মধ্যে আছেন যারা কাজ করার অনুমতি নাই। যারা রাস্তার মধ্যে বিভিন্ন লোক ভিড়ের মধ্যে ব্যবসা করে কিছু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত আর খরচ চালাত তারা খুব কষ্টের মধ্যে আছে । এসব বাঙ্গালীদের মধ্যে খাবার সংকট দেখা দিয়েছে । আমরা যারা অন্যান্য বাঙালীরা আছি আমাদের বাজারের কষ্টে আছি বাহিরে কিছু খাবার দোকান খোলা আছে কিন্তু করোনা সংক্রমন হবে এই ভয়ে বের হচ্ছেনা অনেকেই ,তারপরও আছি আলহামদুলিল্লাহ । এর মধ্যে স্পেন সরকার জরুরী অবস্থা বর্ধিত করেছে আগামী এপ্যিল মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত । জানিনা এর মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক হয় কিনা । যদি স্বাভাবিক না হয় আমাদের কি অবস্থা হয় কিচু বুজে উঠতে পারছিনা । কাজকর্মের সংকট পড়ে যাবে অনেকেই । আমাদের এখানে এশিয়ান খাবার আমরা বাংলাদেশীরা যেসব খাবার খায় এগুলো সাধারণত লন্ডন ইতালি হয়ে আসত , লকডাউন করার পর থেকে এ সাপ্লাইটা বন্ধ হয়ে যায় । আমাদের লাভারব্রীজ এরিয়ায় কিছু বাঙালীর দোকান খোলা ছিল এর মধ্যে অনেকগুলা এখন বন্ধ করে দিয়েছে জিনিসের স্বল্পতার কারণে । অনেক বাঙ্গালী দোকান প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দিয়েছে । অনেক দোকান করোনার সংক্রমনের ভয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে । সল্প দোকান খোলা থাকলেও তারা দাম প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছে । সবকিছুর এভাবে চলতে থাকলে হয়তু খাদ্যসংকটের মধ্যে আমরা পড়ে যাব । আর যারা রাস্তায় ব্যবসা করত যাদের অনুমতির কাগজ নাই,যাদের চাকরী ছিল না তারা খুব খাবারের কষ্টে আছে। অনেকে নিজেরা ঘরে খেতো নাহ হোটেলে খেতো বিভিন্ন জায়গায় খেতো যেহেতু হোটেল বন্ধ সবকিছু বন্ধ ওদের খাবারের খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে , এমনকি তারা অনাহারে অর্ধাহারে আছে। এর মধ্যে ব্রীজ এরিয়ার বাংলাদেশীদের নিয়ে কাজ করে এরকম একটি এনজিও আছে বালিয়ান্তা নামের । তারা গতকাল থেকে
    ওই এনজিওর মাধ্যমে বিভিন্ন বাংলাদেশী বিত্তবান ভাইদের সহযোগীতা যাদের কাজ নাই যারা কষ্টে আছে এসব লোকদের সহযোগীতা করছে । গতকাল থেকে কিছু রিলিপের ব্যবস্থা করেছে । এটা অবশ্যই একটা ভালো আর আমরা যারা আছি এখনো পর্যন্ত ভালো আছি । আর সামনে কি অবস্থা হয় বলতে পারছিনা । আপনাদের সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করতেছি আমরা যেনো ভালো থাকি আমাদের জন্য একটু বেশি করে দোয়া করবেন । বাংলাদেশের অবস্থা ও খুব ভালো না আমি এখান থেকে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল গুলো দেখি নিউজ চ্যানেল গুলো বিশেষ করে দেখি । বাংলাদেশের যা অবস্থা আপনারা সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন । আপনারা সবসময় জনসমাগম এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন সবসময় হাত-মুখ ধুবেন ,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন তাহলে আশা করি আপনারাও সুস্থ থাকবেন । আমাদের জন্য দোয়া করবেন আজ পর্যন্ত স্পেনের করোনা রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫৬ হাজারেরও বেশি তার মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় পাঁচশ এরও বেশি মানুষ মারা গেছে । সব মিলিয়ে স্পেনের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা চার হাজারের অধিক, ,প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়তেছে । আপনারা দোয়া করবেন আমরা যেনো ভালো থাকি আপনারাও সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর সতর্ক থাকবেন ।
    আল্লাহ হাফেজ

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ