• শিরোনাম

    স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও টেকনাফের বধ্যভূমি ও শহীদ কবরস্থান সংরক্ষিত হয়নি

    নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

    স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও টেকনাফের বধ্যভূমি ও শহীদ কবরস্থান সংরক্ষিত হয়নি

    স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত টেকনাফের ঐতিহাসিক বধ্যভূমি ও শহীদ কবরস্থানটি সংরক্ষণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কোন কর্তৃপক্ষ। অথচ সেই ২০০৯ সালেই বধ্যভূমি, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত স্থান চিহ্নিত ও সংরক্ষনে জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা দিয়েছিলো। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এস এম শাহ হাবীবুর রহমানের নের্তৃত্বে এসংক্রান্ত গঠিত জেলা কমিটি টেকনাফের ঐতিহাসিক সেই বধ্যভূমি ও শহীদ কবরস্থান পরিদর্শন করেছিলেন। এরপর এ কমিটির আর কোন তৎপরতার খবর জানা যায়নি।
    জানা যায়, টেকনাফ পল্লান পাড়া এলাকায় হেচ্ছার খাল সংলগ্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে ও এর আশেপাশের পাহাড়ী এলাকাটিকে বধ্যভূমি হিসাবে ব্যবহার করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। যেখানে পাকবাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধাদের ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করে মৃতদেহ ফেলে দিত। চকরিয়া কাকারার বীর মুক্তিযুদ্ধা শহীদ আব্দুল হামিদের মৃতদেহ স্বাধীনতার লগ্নে তার স্বজনরা এই বধ্যভূমি থেকে শনাক্ত করে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

    প্রয়াত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মাষ্টার আব্দুস শুকুর ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের টেকনাফ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সহ বিভিন্ন জনের স্মৃতিচারন থেকে জানা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন বিজয় সিং এর নেতৃত্বে মিত্রবাহিনীর টেকনাফ আগমনের পর মিত্রবাহিনীসহ মুক্তিযুদ্ধারা ঐতিহাসিক সেই বধ্যভূমিটি আবিস্কার করেন। পরে ২৮ জন বীর মুক্তিযুদ্ধার ছিন্ন ভিন্ন দেহ উদ্ধার করে পৌর কবরস্থানের পাশে সমাহিত করেছিল মুক্তিযুদ্ধারা। যেখানে পরবর্তীতে আশির দশকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের যুবকরা একটি শহীদ মিনার স্থাপন করে স্থানটি চিহ্নিত করে রেখেছিলেন। যা বর্তমানে পৌরসভার ইদগাহ মাঠ সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত।

    টেকনাফের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকজন আক্ষেপ করে বলে থাকেন জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি পরপর তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও ৭১ এর সেই বধ্যভূমি ও শহীদ কবরস্থানটি আজো সংরক্ষন করা যায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
    টেকনাফ উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার জহির আহমদ জানান, বধ্যভূমি সংরক্ষণ জেলা কমিটি টেকনাফের ঐতিহাসিক বধ্যভূমিটি পরিদর্শন করলেও ওই স্থানটি আজও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও এখনও বধ্যভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেটি সংরক্ষন করা হয়নি। তিনি অবিলম্বে বধ্যভূমি সংরক্ষনে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

    টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, টেকনাফের মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। যা দ্রুত সময়ে সরকারী ভাবে সংরক্ষণ করা দরকার। না হয় ইতিহাস বিকৃত হবে অতীতের মতো তাতে সন্দেহ নেই। তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

    উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নুরুল বশর বলেন, এ বধ্যভূমিটি পৌরসভা এলাকার ভেতর অবস্থিত তাই পৌর কর্তৃপক্ষ চাইলেও বধ্যভূমিটি সংরক্ষণ করতে পারত।
    এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, বধ্যভূমি ও শহীদ কবরস্থানটি সংরক্ষণে শীঘ্রই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ