• শিরোনাম

    উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আধিপত্যে অতীষ্ঠ অন্যরা,ডাক্তার কর্মচারীরা অন্যত্র চলে যেতে ব্যস্ত

    নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া | ০৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আধিপত্যে অতীষ্ঠ অন্যরা,ডাক্তার কর্মচারীরা অন্যত্র চলে যেতে ব্যস্ত

    উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও একমাত্র গাইনি কনসালটেন্ট। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও গাইনি কনসালটেন্ট ছাড়াই মাসের পর মাস চলছে উখিয়ার দরিদ্র মানুষের একমাত্র স্বাস্থ্য সেবাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজের অবৈধ আধিপত্য বিস্তার ও সব কিছু নিজের কব্জায় রাখতে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
    উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কর্মরত হিসেবে কাগজে-কলমে নিয়োজিত রয়েছেন ডাক্তার শাহ কামাল উদ্দিন। তিনি একই সাথে এ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত। একইভাবে জুনিয়র গাইনি কনসালটেন্ট ডাক্তার ইফফাত সাদিয়া একমাত্র মহিলা ডাক্তার হিসেবে কাগজে-কলমে কর্মরত উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। শুধু তাই নয় বেতন-ভাতা থেকে শুরু করে সরকারি যাবতীয় সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন এ হাসপাতালেই। কিন্তু দীর্ঘ ৫ মাসের অধিক সময় ধরে হাসপাতলে দায়িত্বরত নেই এ দুজন ডাক্তার।

    অথচ একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও গাইনি কনসালটেন্ট পদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এ পদ দুটিতে সরকারী ভাবে কাগজে-কলমে থাকার পরও কিভাবে অন্যত্র প্রেষণে চলে গেল বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সুশীল সমাজের অভিমত।
    এছাড়াও একমাত্র মহিলা ডাক্তার তাও জুনিয়র গাইনি কনসালটেন্ট ডাক্তার সাদিয়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করায় উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা মহিলা রোগীগণ সুচিকিৎসা পাচ্ছে না। এমনকি আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদে নিযুক্ত ডাক্তার না থাকায় হাসপাতালে দাপ্তরিক কর্মকা- নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    উখিয়া কৃষকলীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, রাজাপালং ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারন সম্পাদক রাসেল উদ্দিন সুজন সহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আবদুল মান্নান এখানে যোগদানের পর থেকে হাসপাতালের দূর্দশা বিরাজ করছে। তার বিভিন্ন অনিয়ম ,দূর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জনের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেছেন।

    তারা জানান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নানা অনিয়ম, দূর্নীতি জায়েজ করতে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও গাইনি কনসালটেন্ট পদের ডাক্তারদের প্রেষণে পাটিয়েছেন। এতে উখিয়ার প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে । স্থানীয় নাগরিক সমাজের মতে উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরাজমান নানা অনিয়ম , দূর্নীতি ও বিশৃংখলা দমন ও নির্ধারিত ডাক্তার স্বপদে প্রেরণ করার জন্য জেলা সিভিল সার্জনের নিকট দাবি জানিয়েছেন।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে গত গত মাসে শাস্তিমূলক বদলীর শিকার হয়েছেন শামসুল আলম নামের ৪র্থ শ্রেণীর এক কর্মচারী। তার বাড়ী উখিয়া হলেও বদলী করা হয়েছে চট্টগ্রামের একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এভাবে উক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেউ সোচ্ছার হলে তাকে অন্যায় ভাবে শাস্তি ভোগ করতে হয়।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, ডাক্তার শাহ কামাল উদ্দিন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও ডাক্তার ইফফাত সাদিয়া জুনিয়র গাইনি কনসালটেন্ট হিসাবে হাসপাতালে কর্মরত আছেন। কিন্তু গত ৫ মাস ধরে প্রেষণে তারা দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতাল চলে যায়। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলো অস্বীকার করে এটা স্থানীয় জনৈক কর্মচারীর বানোয়াট বলে দাবী করেন। দুই ডাক্তারের ব্যাপারে এটি সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য বিভাগের এখতিয়ার বলে জানান তিনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ