• শিরোনাম

    হিমছড়ি সৈকতে বনবিভাগের হাতে ঝাউবাগান নিধন

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১:১৯ পূর্বাহ্ণ

    হিমছড়ি সৈকতে বনবিভাগের হাতে ঝাউবাগান নিধন

    হিমছড়ি সৈকতে বনবিভাগের হাতে ঝাউবাগান নিধন হচ্ছে। প্রথমে চারাগাছ কীটনাশক প্রয়োগ ও পরে চারা উপড়ে ফেলা হচ্ছে। ভিডিও চিত্রে এমন তথ্য প্রকাশ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
    কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতের আমতলীর ছড়া মোহনায় গড়ে তোলা ৫০ একর ঝাউবাগানের চারাবৃক্ষ বিবর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। সৈকতের পাশ্ববর্তী পাহাড়ে লাগানো আরো ২৫ একর জমির চারাগাছও একইভাবে মরে যাচ্ছে। গত প্রায় পক্ষকাল আগে বনকর্মীরা রহস্যজসকভাবে খরার সময় সৈকতের ঝাউবাগানে ও পাহাড়ের এলআর বাগানে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করার পরপরই ঝাউবাগানের চারা গাছগুলো বিবর্ণ হয়ে মরে যেতে শুরু করে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তবে বিষয়টি ‘স্যাবোটাজ’ হতে পারে বলে মনে করেন কক্সবাজারের দক্ষিণ বিভাগের বনরক্ষক।
    গত জুনে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ কোটি টাকা ব্যয়ে হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতের আমতলী ছড়া মোহনা থেকে বাট্টুমিয়ার খামার পর্যন্ত ২০ হেক্টর জমিতে ৫০ হাজার চারাগাছ লাগিয়ে ঝাউবনটি সৃজন করে।
    কৃষিবিদরা বলেন, নিয়মিত পানি সেচ দেয়া হয় না এমন জমিতে খরা বা টানা রোধের সময় সার প্রয়োগ করা যায় না। সার দিলে চারা গাছের ক্ষতি হয়। এ জন্য বৃষ্টির সময় সার প্রয়োগ করা উচিৎ, যাতে সেই সার বৃষ্টির পানির সাথে মাটিতে মিশে যায়।
    স্থানীয় আমতলী ছড়া এলাকার বাসিন্দা কৃষক মাহবুব ও হাবিব বলেন, খরার সময় সার প্রয়োগের বিষয়টি আমাদের কাছে খটকা লাগায় বিষয়টি বনকর্মীদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা উল্টো আমাদের মামলার হুমকী দেয়। বিষয়টি রহস্যজনক বলে দাবি করেন তারা।
    হিমছড়ি সৈকত ও পাহাড়ে অকালে ইউরিয়া সার প্রয়োগের কারণ সম্পর্কে জানতে হিমছড়ি বিট কর্মকর্তা ও সদর রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার তারিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বার বার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) হক মাহবুব মোর্শেদ ঘটনাটি ‘স্যাবোটাজ’ (নাশকতা) হতে পারে বলে মনে করেন।
    বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) হক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, গত একমাসের মধ্যে বনবিভাগে সার প্রয়োগের কোন বাজেট ছিল না। তবে দুই মাস আগে চারাগাছে মড়ক দেখা দিলে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়।
    তিনি বলেন, বনবিভাগের গড়ে তোলা ঝাউবাগানের পাশে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে সৈকতে ব্যবসা করছে একটি প্যারাসেইলিং কোম্পানী। সেখানে তারা নানা স্থাপনাও নির্মাণ করেছে। আমরা তা উচ্ছেদ করেছি। এ কারণে তারা বিষয়টি ছড়াতে পারে। এবিষয়ে অভিযুক্ত ‘ফানফেস্ট বীচ স্পোর্টস’র ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বলেন, গত চার বছর আগে হিমছড়ি আমতলী ছড়ার জেগে ওঠা চরে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ব্যবসা শুরুর পর আমরা নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজনে অনেক চারা গাছ লাগিয়ে বাগান গড়ে তুলেছি। বনবিভাগও গত কয়েক মাস আগে চারা লাগিয়েছে। এতে আমাদের লাভই হয়েছে। আমরা কেন ‘স্যাবোটাজ’ করতে যাব।’ বনকর্মীরা কৌশলে গাছে অকালে সার প্রয়োগ করে বাগান ধ্বংস করেছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি। যাতে তারা হয়তো আমাদের চাপ সৃষ্টি করে সুবিধা আদায় করতে পারে বা চারাগাছগুলো মেরে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন বাগান সৃষ্টি করতে পারে। এতে কিছু অসাধু বনকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে লাভবান হবে এই কৌশলে চারাগাছ উপড়ে ফেলা হচ্ছে। ঝাউচারা উপড়ে ফেলার দৃশ্য ভিডিও রেকর্ড রয়েছে।##

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ