সোমবার ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

দাবী পূরণ না হলে স্বদেশে ফিরবে না :টেকনাফের পুটিবনিয়া শিবিরে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা দিবস পালন

হুমকির মুখে টেকনাফ-উখিয়ায় পরিবেশ ও নিরাপত্তা

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ   |   সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯

হুমকির মুখে টেকনাফ-উখিয়ায় পরিবেশ ও নিরাপত্তা

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুই বছরে একজনও ফেরত পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ। উপরন্তু উখিয়া-টেকনাফের পরিবেশ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসহ সব বিষয়ে বিপর্যয়সহ নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গারা দখল করে নিয়েছে হাজার হাজার একর জমি, জড়িয়ে পড়ছে মাদক ও খুনসহ বিভিন্ন অপরাধে। ফলে, তীব্র ক্ষোভ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে।
জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইনে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট নির্বিচারে সাধারন রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন, ধর্ষন ও হত্যা করে। এ দিবসটিকে গনহত্যা (জেনোসাইড) দিবস হিসেবে উল্লেখ করে দ্বিতীয় বারের মতো পালন করছে রোহিঙ্গারা।
দিবসটি উপলক্ষে টেকনাফের পুটিবনিয়া শিবিরে (নং-২২) গণহত্যা দিবস পালন করেছে রোহিঙ্গারা। এ উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের আয়োজন করে তারা। সমাবেশ থেকে ৫ দফা দাবী দাওয়া পূর্নব্যক্ত করেন রোহিঙ্গা নেতারা। সমাবেশে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা অংশগ্রহন করেন। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিবিরের প্রশাসনিক এলাকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সেনা, পুলিশ সহ শিবিরের আইন শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী উপস্থিত ছিলেন।

পরে শিবির এলাকায় বিভিন্ন সড়কে খন্ড খন্ড মিছিল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সড়কে ‘আঁরা বার্মাত ন যাইয়ুম’ ‘আরাঁ রোহিঙ্গা হত্যার বিচার চাই’ শ্লোগানে মুখরিত করে তুলে। এসময় রোহিঙ্গা নেতা, শিশু ও কিশোরেরা উত্থাপিত দাবী আদায় না হলে স্বদেশে ফিরে যাবেনা বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছে। দাবী গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরাসরি নাগরিকত্ব প্রদান, ভিটে-বাড়ি ও জমি-জমা ফেরত, আকিয়াব জেলায় আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ বাড়ীতে ফেরত, কারাগারে বন্ধি রোহিঙ্গাদের মুক্তি, হত্যা, ধর্ষনের বিচার, অবাধ চলাফেরা, নিরাপত্তা প্রদান।
পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ মো. নাজমুল সুমন জানান, রোহিঙ্গারা দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের আবেদন করলে তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়। এসময় তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছে। পরে সমাবেশ শেষে যার যার ঘরে ফিরে যায়। আইন শৃংখলা বাহিনী এসময় উপস্থিত ছিল বলে জানান তিনি।
এতে বক্তব্য রাখেন রোহিঙ্গা নেতা আমান উল্লাহ মাঝি, মোঃ রফিক, শাব্বির, ইউসুফ, আবদুল আমিন, জামিল, আলীসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
এদিকে টেকনাফ উপজেলার জাদিমুরায় গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কর্তৃক ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যায় ওই এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবসের সকল প্রস্তুতি নিলেও ক্যাম্প ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭ প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে জানা গেছে। ফলে ওই ক্যাম্পগুলোতে কোন কর্মসূচী ছিলনা।

রোহিঙ্গা আগমনের দূ’বছর পূর্ণ হলেও এরই মাঝে দুই দফা প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি নিয়েছিল সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজি না হওয়ায় ভেস্তে যায় সব প্রস্তুতি। এতে আরো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে উখিয়া-টেকনাফের জনগন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গারা আসার পরে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার জন্য নিজেদের ইচ্ছা মতো সব কিছু করে যাচ্ছে। ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর বনাঞ্চলের পাশাপাশি দখলে নিয়েছে হাট-বাজার। মানবিকতার দোহায় দিয়ে প্রায় ২০০ এনজিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করায় বেড়ে গেছে গাড়ির চলাচল। ফলে ২ ঘন্টার রাস্তা যেতে সময় লাগছে ৫ ঘন্টা। এখানেই শেষ নয়, রোহিঙ্গাদের কারণে জায়গা মিলছে না গণ পরিবহনে। জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকলে হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে চেকপোস্টে। সবকিছু মিলিয়ে স্থানীয়রা চরম দুর্দশার মধ্যে পড়ে গেছে। হুমকীর মুখে পড়েছে পরিবেশ ও নিরাপত্তা।

টেকনাফ সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান হাশেমী জানান, রোহিঙ্গাদের কারণে বনজ সম্পদ ও বন্য প্রাণী অভয়ারন্যের অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। উজাড় হওয়া বনভূমির মধ্যে বিশেষ করে হাতি ও মায়া হরিনের আবাস্থল এবং চারণ ভূমি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। বন ধ্বংসের কারণে উখিয়া-টেকনাফে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক দিক খুবই প্রকট আকার ধারন করছে। যা ষড়ঋতুর বাংলাদেশে টেকনাফ-উখিয়ায় কেবল দুই-তিন ঋতু পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক কাইছার পারভেজ চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রা কোণঠাসা। যত্রতত্র রোহিঙ্গাদের বিচরনের ফলে যাতায়াত, স্বাস্থ্য, শিক্ষা চরম ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া বন উজাড় করে বসবাস করায় পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা জরুরী।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, রোহিঙ্গা গনহত্যা দিবসে রোহিঙ্গারা যাতে আইনশৃংখলা অবনতি করতে না পারে সেজন্য টেকনাফের সকল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
মাদক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বর্তমানে যেসব চালান ধরা পড়ছে সবই আনছে রোহিঙ্গারা। মিয়ানমার বর্ডার কাছাকাছি হওয়ায় কিছুতেই তাদের থামানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি অন্য অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।

Comments

comments

Posted ২:১৯ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com