• শিরোনাম

    জেলায় অতিরিক্ত পণ্য মূল্য আদায়ে বেপোরয়া ব্যবসায়ীরা

    ১০ লাখ টাকা জরিমানা: একজনের কারাদন্ড

    নিজস্ব প্রতিনিধি | ২২ মার্চ ২০২০ | ১:১১ পূর্বাহ্ণ

    ১০ লাখ টাকা জরিমানা: একজনের কারাদন্ড

    করোনা আতংককে পুঁজি করে জেলাব্যাপী অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। আতংকগ্রস্ত মানুষদের একযোগে নিত্যপন্য ক্রয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেনীর অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পন্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে সাধারন মানুষ, অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে কাঁচা মালামালসহ নিত্যপণের বাজার। এমনি পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগন আইন শৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় জেলাব্যাপী ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার জেলা শহরের বড়বাজার, চকরিয়া ও উখিয়া উপজেলায় বিভিন্ন হাট বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে প্রায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে, কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে একজনকে।
    শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শেখ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে কক্সবাজারের বড়বাজারের বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা দোকানে অভিযান চালানো হয়। এসময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শাহরিয়ার মোক্তার ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানা প্রদান করেন।
    অভিযানে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, পণ্যের মূল্য তালিকা না রাখা সহ বিভিন্ন অপরাধে ইমন স্টোর, বার আওলিয়া স্টোর ও মোক্তার স্টোর, হাসান ট্রেডার্স, রিমা স্টোর ও হমেল ট্রেডার্স ও রাসেল ট্রেডার্সকে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়, একই অভিযোগে কাশেম এন্ড সন্সের সত্বাধিকারী মিজানুর রহমানকে আটক ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
    কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোঃ ইকবাল হোসাইন জানিয়েছেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো গর্হিত কাজ। সবাইকে এই ধরণের অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকতে হবে।’নোবেল করোনাভাইরাসের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন নিত্যপ্রয়াজনীয় পণ্যের মজুত করতে না পারে সেদিকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য না কেনার অনুরোধ করেন তিনি।

    এদিকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (২১ মার্চ ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চকরিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরশহর, উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়াছড়া স্টেশন, ডুলাহাজারা বাজার, খুটাখালী বাজার এবং বদরখালী বাজারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান এবং সহকারি কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে দুটি পৃথক টিম ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।

    শনিবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন ডুলাহাজারা এবং খুটাখালী বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় মূল্য তালিকা না টাঙ্গানো এবং অতিরিক্তি দামে পণ্য বিক্রি করায় ১৫টি মুদির দোকানকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    দুপুরে চকরিয়া ইউএনও নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া স্টেশনের দুটি চাউলের গুদামে অভিযান চালায়। এসময় বিপুল পরিমাণ চাল ও নিত্যপণ্য মজুত করায় তাদেরকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    এছাড়া বদরখালী বাজারে পণ্যে অতিরিক্ত দাম রাখায় কয়েকটি মুদির দোকানদারকে ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত। একই অপরাধে শনিবার সন্ধ্যায় চকরিয়া পৌরশহরের তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
    এ বিষয়ে চকরিয়া ইউএনও নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, কিছু কিছু ব্যবসায়ী করোনা ভাইরাসের সুযোগ নিয়ে দ্রব্যমূল্যের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে। বিশেষ করে চাল-ডাল ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে। এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোট ৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

    অপরদিকে উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের পৃথক ভ্রাম্যমান অভিযানে ১৬ দোকান, ১টি ডাম্পারকে ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকালে এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি)।
    এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী মরিচ্যা ও সোনারপাড়া বাজারে ৪টি মুদির দোকানে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত দাম, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখার দায়ে ৬৫ হাজার টাকা, পরিবেশ আইন অমান্য করে পাহাড় কেটে মাটি পাচারকালে মাটি ভর্তি একটি ডাম্পার গাড়ীকে আটক করে ১লাখ টাকা এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ আইনে একজনকে ১০হাজার টাকাসহ ১লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

    ইউএনও অভিযান পরিচালনাকালে বিভিন্ন হোটেল, মুদির দোকানসহ মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারী প্রতিষ্টানকে সতর্ক করে বলেন, যতদিন নির্ধারিত দামে মালামাল বিক্রি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ক্রেতাদের হয়রানী বন্ধ হবেনা ততদিন এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
    একই সময়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) আমিমুল এহসান খান উখিয়া বিভিন্ন হাটবাজারে অভিযান চালিয়ে ১২ টি কাঁচা তরকারি ও মুদির দোকান মালিককে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অপরাধে ২লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে প্রত্যকে ১৫ দিনের কারাদÐের আদেশ দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, অভিযানে উপজেলার থাইংখালী বাজারে ৪ দোকানে ৫৫ হাজার, পালংখালী বাজারে ২ দোকানে ৭০ হাজার, মরিচ্যা বাজারে ৫ দোকানে ১লাখ ১৫ হাজার এবং কোটবাজার ১ দোকানে ২০ হাজার টাকা সহ মোট ২লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
    তিনি জানান, দেশে করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। তাই অনেকে তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করে রাখতেছে। এই সুবাধে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্যের দাম বেশি নিচ্ছে। যারা দাম বেশি নিচ্ছে তাদেরকে জরিমানা করা হয়েছে। হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে এই অভিযান অব্যহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ