• শিরোনাম

    মহেশখালীতে অস্ত্রকারিগর ও দস্যুদের আত্মসমর্পণ আজ

    ১৫ বছরেও হয়নি ১৪ জেলে হত্যার বিচার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ১:০২ পূর্বাহ্ণ

    ১৫ বছরেও হয়নি ১৪ জেলে হত্যার বিচার

    দীর্ঘ ১৫ বছরেও কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু কর্তৃক একটি মাছধরা ইঞ্জিন নৌকার ১৪ জেলে হত্যার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়নি। জলদস্যুরা অত্যন্ত পৈশাচিক কায়দায় সেদিন নিরীহ ১৪ জন জেলেকে হত্যা করেছিল। এদিকে সাগরে একের পর এক দস্যুতার ঘটনাও ঘটে চলেছে।
    এরি মধ্যে আজ শনিবার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করছে শতাধিক জলদস্যু। মহেশখালী দ্বীপের কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্টানে দস্যুর দল আতœসমর্পণ করবেন। অনুষ্টানে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারি।
    মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক জানান, সাগরে জলদস্যুদের সংগটিত সবচেয়ে লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনাটি এখনও দ্বীপাঞ্চলের মানুষ ভুলতে পারেনি। সেই ২০০৪ সালের ২৮ অক্টোবরের ওই ঘটনায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সুন্দরীপাড়ার ১৪ জন জেলেকে জলদস্যুরা নির্মম ভাবে হত্যা করেছিল।

    মহেশখালী থানায় দায়ের করা সেই ঘটনার ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়ার বাসিন্দা শাহাদত আলীর মালিকানাধীন ‘এফবি কাউছারা’ নামের ইঞ্জিন চালিত মাছধরার নৌকাটিতে ১৫ জন জেলে ছিল। নৌকার জেলেরা গভীর সাগরে মাছ ধরে তীরে ফিরে আসার সময় সোনাদিয়া দ্বীপের কাছে জলদস্যুদের কবলে পড়ে।
    আনুমানিক ২০/২২ জনের জলদস্যুর দল নৌকাটিতে উঠে জেলেদের এলোপাথাড়ি মারধর করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে দস্যুরা অস্ত্রের মুখে একের পর এক ১৪ জন জেলেকে জোর পুর্বক নৌকার বরফ রাখার হিমাগারে (কোল্ড ষ্টোরেজ) ঢুকিয়ে ফেলে। হতভাগা ১৪ জেলে হিমাগারের ভিতর গাদাগাদি অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুর শিকার হন। নৌকাটির একমাত্র জেলে নুরুল হক ইঞ্জিনের পেছনে লুকিয়ে থেকে প্রাণে রক্ষা পান। নিহতরা সবাই কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলারই বাসিন্দা।

    পুলিশ মামলাটির অভিযোগ পত্র দাখিল করে ২০০৩ সালের ৩ মার্চ তারিখে। পুলিশের অভিযোগ পত্রে আসামীর সংখ্যাও ১৪ জন। তাদের মধ্যে জামিনে আছেন ১০ জন এবং পলাতক রয়েছেন আরো ৪ জন। পলাতক আসামীদের মধ্যে নাজমুল আলম নামের একজন রোহিঙ্গা জঙ্গি গ্রুপের সামরিক কমান্ডারও রয়েছেন। সাগরে জলদস্যুদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ দিয়ে উক্ত রোহিঙ্গা নেতা ওতপ্রোতভাবে একাজে জড়িত বলে পুলিশের প্রদত্ত অভিযোগ নামায় উল্লেখ রয়েছে। চাঞ্চল্যকার মামলাটি বর্তমানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
    কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন এ বিষয়ে জানান, গেল বছরের অক্টোবরে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এবারও শ’খানেক দস্যু আত্মসমর্পণ করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মহেশখালী দ্বীপের বেশ ক’জন অস্ত্র কারিগরও। তিনি বলেন, দস্যুতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০১০ সালের পরবর্তী সময়েরও ১৩ টি জলদস্যুতার মামলা বর্তমানে আদালতে বিচিারাধীন রয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দ্দেশে আত্মসমর্পণ যারা করবেন তাদের প্রত্যেককে পুণর্বাসন করা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ