• শিরোনাম

    ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাবিলদার (অব.) আব্দুর রহিমে’র স্মরণে আলোচনা সভা

    বার্তা পরিবেশক | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৯:২০ অপরাহ্ণ

    ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে  বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাবিলদার (অব.) আব্দুর রহিমে’র স্মরণে আলোচনা সভা

    ১৬ ডিসেম্বর সকালে শিক্ষার্থীরা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস তুলে ধরতে ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাবিলদার (অব.) আব্দুর রহিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে এক বিজয় র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকাল ২ টায় খোন্দরকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্য ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা স্মরণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাবিলদার (অব.) আব্দুর রহিম স্মৃতি পরিষদের আহবায়ক আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুতুবজুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন খোকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও সহযোগী সদস্য, বি.এস.এইচ.আর.এম. ঢাকা এহসান উল্লাহ (এম.ফিল), খোন্দকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মমতাজুল ইসলাম, মহেশখালী উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সদস্য সালামত সিকদার, কুতুবজুম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক কলিম উল্লাহ ইমন।

    অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, কুতুবজুম ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড সহ-সভাপতি আনছার উদ্দীন, ৯নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সাবের হোসেন, ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আব্দুস সাত্তার, কুতুবজুম ইউনিয়ন মৎস্যজীবী লীগের আহবায়ক ফোরকান উদ্দীন প্রমূখ। ছাত্রলীগ নেতা তারেক আজিজের সঞ্চালনা অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনব্যাপী সংকল্প ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে মাথা তুলে বিশ্ব দরবারে উচ্চ স্থানে পৌঁছে দেয়া। এ প্রয়াস বাঙালী জাতির উত্থানপর্বকে ত্বরান্বিত করেছে। বঙ্গবন্ধুর বিশাল নেতৃত্ব গুণে একজন প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক নেতা হিসেবে স্বাধীনতা অর্জনের ঘোষণা দিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি বরং পাকিস্তানের কারাগারে থেকে মৃত্যুঝুঁকি নিয়েও অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে অটল ছিলেন। তাঁর মতো মহৎ নেতা আসলে ক্ষণজন্মা পুরুষ। নচেৎ যার ধান-জ্ঞান ছিল বাঙালীর মুক্তি সাধন ।

    লাল-সবুজের পতাকাশোভিত স্বাধীন বাংলার কোটি কোটি মানুষ যুগ যুগ ধরে তাঁকে স্মরণ করবে বিনম্র শ্রদ্ধায়। তাঁদেরই একজন, মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের খোন্দকার পাড়া গ্রামের মরহুম খলিলুর রহমান ও আলীমুন নেছার পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাবিলদার (অব.) আব্দুর রহিম। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আব্দুর রহিম মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৫৩ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। চাকরীকালীন তিনি মেডেল ও হাবিলদার পদমর্যাদা লাভ করেন। ই.পি.আর পিলখানা হতে ১৯৭১ সালে সক্রিয় ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন হাবিলদার আব্দুর রহিম। ১১ সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধা পরিচালনা হতে, ৩নং সেক্টর ও ২নং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালিন দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার মেজর কে এম শফিউল্লাহ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) এবং মেজর এ এম এন নুরুজ্জামানের (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর) অধীনে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি আখাউড়া, ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশ বিশেষ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিসংগ্রামে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতার লাল বই নং-০২১৩০৬০০০৩ এবং মহেশখালীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং-১৭০।

    বক্তারা আরও বলেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যাঁরা বাংলার স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছেন তাঁদেরই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাবিলদার (অব.) আব্দুর রহিম। মহেশখালীবাসী যুগ যুগ ধরে তাঁকে স্মরণ করবে বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায়। আলোচনা সভায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্য ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ