• শিরোনাম

    প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে বদরখালীতে হাজারো মানুষের মানববন্ধন

    ১৭ গুন কম দামে ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করায় ক্ষুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্তরা

    নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

    ১৭ গুন কম দামে ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করায় ক্ষুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্তরা

    মহেশখালীতে সরকারের বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্প গভীর সমুদ্রবন্দর ও মাতারবাড়িতে কয়লা বিদ্যুতের সংযোগ সড়ক, রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের বিপরীতে অধিগ্রহণকৃত জমির যথাযথ মৌজামূল্য না পেলে জায়গা না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে জমির মালিকেরা। ইতোমধ্যে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ানোর পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে বিষয়টি সমাধান করতে আদালত নির্দেশনা দিলেও তা ফাইলবন্দি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী বাজারে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে এলাকাবাসী। সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নানা ধরণের ব্যানার, প্লাকার্ড, ফেস্টুন হাতে নিয়ে এই কর্মসূচীতে অংশ নেন হাজারো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

    মানববন্ধন কর্মসূচীতে লিখিতভাবে সাংবাদিকদের জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সমবায়ী প্রতিষ্ঠান বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির মালিকানাধীন এক কানি (৪০ শতাংশ) জমির বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত। কিন্তু সাবরেজিষ্ট্রার কর্তৃক মনগড়া মৌজা মূল্য নির্ধারণ করা হয় মাত্র ৮ লক্ষ টাকা। যা বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে অন্তত ১৭ গুন কম। এরইমধ্যে উপরোক্ত মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বদরখালী ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ একর জায়গা অধীগ্রহণের আওতায় পড়েছে। কিন্তু ৯০ বছরেও বদরখালী ঘোনা মৌজার জমির ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বদরখালী ইউনিয়নের সমবায়ী ৫০ হাজার জনতা ও তাদের বসতবাড়িসহ সহায়-সম্পদ। বিষয়টি নিয়ে সমিতির পক্ষে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হলে আদালত কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুষ্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে বাস্তবতার নিরিখে ন্যায্যমূল্যে জমি অধিগ্রহণ করার। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানির দরে মানুষের জায়গা-জমি, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বহুতল ভবন, গোয়াল ঘর, ধানীজমি, লবণ মাঠ, চিংড়িঘের, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার জমি কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সমিতির সভাপতি নুরুল আলম সিকদার, সহ-সভাপতি আলী মো. কাজল, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল বশর, সমিতির সাবেক সভাপতি রশিদ আহমদ, সাবেক সম্পাদক দেলোয়ার হোছাইন ও খান জয়নাল আবেদীন, সাবেক চেয়ারম্যান নূরে হোছাইন আরিফ, সাংবাদিক আক্তার আহমদ, দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দসহ ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকেরা।

    এ প্রসঙ্গে এশিয়ার বৃহত্তম বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সম্পাদক নুরুল আমিন জনি লিখিতভাবে জানান, সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সমবায় আইনে বদরখালী মৌজার জমি সমিতির সম্পাদকের একক নামে হওয়ায় সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে এই জমি রেজিষ্ট্রি দেওয়ার সুযোগ নেই বা কোনসময় ছিলো না। ফলে সাবরেজিষ্ট্রি অফিস সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে পানির দরে জমির মৌজা মূল্য নির্ধারণ করে। যা বাস্তবতা বিবর্জিত, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। এই মনগড়া নির্ধারিত মৌজামূল্যে জমি অধিগ্রহণ করা হলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সমিতির সভ্যরা।
    সম্পাদক জনি আরো জানান, এনিয়ে ২০১৮ সাল থেকে সমিতির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, জেলা রেজিষ্ট্রার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অসংখ্য দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। কিন্তু তারা কোন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় সর্বশেষ মহামান্য হাইকোর্টে ৭২৫৪/২০১৯ নম্বর রিট আবেদন করলে ওই বছরের ৮ জুলাই বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীর দ্বৈত বেঞ্চ মৌজা রেট একমাসের মধ্যে সুরাহা করতে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসককে। কিন্তু অদ্যাবদি সেই সমস্যা সমাধান না করে সমিতির নিয়ন্ত্রণাধীন ৫০০ একর জমি কেড়ে নেওয়ার পায়তারা শুরু করেছে। বাস্তবতার নিরিখে যথাযথ মৌজামূল্য না পেলে এই জমি না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। ##

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ