• শিরোনাম

    কক্সবাজার শহরে বিশাল মানববন্ধন

    ৭ ধারা নোটিশকে কালারমারছড়াবাসীর না

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১:৫০ অপরাহ্ণ

    ৭ ধারা নোটিশকে কালারমারছড়াবাসীর না

    কক্সবাজার ভ‚মি অধিগ্রহণ শাখার দেয়া ৭ ধারার নোটিশে কালারমারছড়ার মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তা করা হয়নি। আড়াল করা হয়েছে জমির বর্তমান মূল্য। সরকারিভাবে লবণ শিল্প। কিন্তু সেই শিল্পের ভ‚মিকে গণ্য করা হচ্ছে কৃষি জমি। আমরা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জমি ছেড়ে দিতে পারি। কিন্তু যে জমি আমাদের আয়-রোজগারের প্রধান অবলম্বন। অন্ততঃ ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে আমাদের তার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হোক। প্রতি একর জমির মূল্য নির্ধারণ করা হোক আড়াই কোটি টাকা। এই কারণেই আমরা কেউ ৭ ধারায় নেয়া নোটিশ গ্রহণ করিনি। সরাসরি না বলে দিয়েছি। গতকাল ১১ ফেব্রæয়ারি সকালে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়ার বাসিন্দারা এই কথা বলেন। জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের মাধ্যমে ৭ ধারায় দেয়া নোটিশের প্রতিবাদ জানান তাঁরা। পাশাপাশি অধিগ্রহণকৃত ভ‚মির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে অনুরোধ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত জনতার ন্যায্য দাবি আদায় পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন।
    মানববন্ধনে যোগ দেয়া কালারমারছড়ার বাসিন্দারা বলেন, ভ‚মি অধিগ্রহণের কারণে পূর্ব পুরুষের ভিটা ছাড়তে হবে। পরিবর্তন করতে হবে পেশা। ফলে কালারমারছড়ার বাসিন্দারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে। বেকারত্বও বেড়ে যাবে। বিষয়টি বুঝতে পেরে কালারমারছড়ার ঘরে ঘরে এখন হতাশা নেমে এসেছে। তাই আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মানববন্ধনে যোগ দিয়েছি। যাতে জেলাপ্রশাসক মহোদয় আমাদের ন্যায্য দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরেন।

    ক্ষতিগ্রস্ত জনতার ন্যায্য দাবি আদায় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সরওয়ার আজিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মোর্শেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন, মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শরীফ বাদশা, সেলিম চৌধুরী, হাছান বশির, মোঃ জাকারিয়া, বদিউল আলম, মোঃ ইছহাক, গিয়াস উদ্দিন শাহীন, রশিদ আহমদ, অ্যাডভোকেট শাহাবউদ্দিন, মৌলভী সোলায়মান, অ্যাডভোকেট আবু বকর, বেলাল হোসেন প্রমুখ। মানবন্ধন শেষে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জেলাপ্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন’র সঙ্গে সাক্ষাত করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর তাঁরা জেলাপ্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
    মানববন্ধনে যোগ দিতে কালারমারছড়া থেকে কক্সবাজার শহরে এসেছিলো লবণ শ্রমিক কিশোর নাজেম উদ্দিন। এই প্রতিবেদককে কিশোর নাজেম উদ্দিন জানায়, তাদের পারিবারিক কোন জমি নেই। লবণের মাঠে কাজ করে প্রতিদিন তার ৩’শ থেকে ৪’শ টাকা আয় হয়। মাঠ চলে গেলে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই মহেশখালী থেকে এখানে আসা। শ্রমিক হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় তার নাম রয়েছে কিনা জানতে চাইলে নাজেম উদ্দিন জানায়, এলাকার রশিদ মাঝি তার নাম লিখে নিয়েছে। এর বেশি কিছু সে জানে না।

    মানবন্ধনে কালারমারছড়ার উত্তর ঝাপুয়া থেকে আসা জমি মালিক রেজাউল করিম জানান, তিনি ৭ ধারায় দেয়া নোটিশ গ্রহণ করেননি। কারণ নোটিশে জমির প্রকৃত দাম উল্লেখ করা হয়নি বলে তিনি শুনেছেন। একর প্রতি আড়াই কোটি টাকার নীচে তিনি জমি ছাড়বেন না বলে এই প্রতিবেদককে জানান।
    মানববন্ধনে যোগ দেন কালারমারছড়ার চিকনিপাড়ার বাসিন্দা রহিম উল্লাহ্। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় সাধারণত জমি কেনাবেচা হয় না। কারণ ১ কানি (আড়াই কানিতে ১ একর) জমি লাগিয়ত (বর্গা) দিলেই প্রতি বছর ৪৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। ৭ ধারায় দেয়া নোটিশ তিনিও গ্রহণ করেননি উল্লেখ করে রহিম উল্লাহ্ বলেন, শুনেছি নোটিশে জমির আসল দাম উল্লেখ করা হয়নি। ১ একর জমির মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ১৮ লাখ টাকা। যা বর্তমানে সাধারণ বাজার মূল্যের চেয়েও অনেক কম। তাই আমরা প্রতিবাদ করতে স্বেচ্ছায় কক্সবাজার এসেছি।

    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ