• শিরোনাম

    মাতারবাড়ীর হোসেন বহদ্দারের কপাল খুলেছে

    ৮১ টি পোয়া মাছের দাম ৪০ লাখ টাকা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

    ৮১ টি পোয়া মাছের দাম ৪০ লাখ টাকা

    কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ীর জেলে হোসেন বহদ্দারের (৬৫) কপাল খুলে গেছে। তার মাছ ধরা নৌকার জালে আটকা পড়েছে ৮১ টি সামুদ্রিক কালো পোয়া (ব্ল্যাক জো ফিস) মাছ। উক্ত সংখ্যক পোয়া মাছ বিক্রি করে হোসেন বহদ্দার পেয়েছেন ৪০ লাখ টাকা। সামুদ্রিক এ জাতীয় পোয়া মাছের পটকার (ফদনা) দাম বেশী। বিদেশে স্যুপ হিসাবে উপাদেয় খাবার এসব পটকা (ফদনা)। বিদেশে রপ্তানী করার জন্যই এসব মাছ অনেক বেশী দামে বিক্রি হয়ে থাকে।
    মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন সাইরার ডেইল জেলে পাড়ার বাসিন্দা দরিদ্র জেলে হোসেনের ১০/১২ লাখ টাকা কর্জ রয়েছে। কর্জের টাকা শোধ করতে না পেরে অভাগা জেলে হোসেন গত ক’মাস ধরে হাটে-বাজারেও বের হননি। ছিলেন লোকজনের চোখের আড়ালে। ভাগ্য বলে কথা ! সেই জেলে হোসেনের জালে আটকা পড়া মাছ বিক্রির টাকায় তিনি এখন কর্জ শোধ করবেন। নির্মান করবেন একটি নতুন ঘর।

    জানা গেছে, মাতারবাড়ী সাইরার ডেইল জেলে পাড়ার বাসিন্দা হোসেন বহদ্দার ও তার ছেলে মোজাম্মেল বহদ্দারের দু’টি ছোট আকারের মাছ ধরা নৌকা রয়েছে। নৌকা দু’টি নিয়েই বাপ-বেটা সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। মাত্র ২০/২২ অশ্বশক্তি চালিত ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে গভীর সাগরে পাড়ি দিয়ে মাছ ধরতে যেতে পারেন না তারা। তাই তাদের জাল ফেলতে হয় সাগরের তীরবর্তী এলাকায়।

    মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ মাষ্টার গতকাল বুধবার জানান-‘ দরিদ্র জেলে হোসেনের জালে কোটি টাকার পোয়া মাছ ধরা পড়ার খবর পেয়ে আমি সাগর তীরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আমি এসব বিশাল আকারের পোয়া মাছ দেখে অবাক হয়ে পড়ি।’ তিনি বলেন, হোসেন এমনই একজন দীনহীন জেলে যে, তার কোন টাকাই নেই বরফ আনার জন্যও। আমরা তড়িঘড়ি করে বরফ এনে মাছগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে দিই। ইউপি চেয়ারম্যান জানান, সাগরে প্রজনন সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখার ফলেই সামুদ্রিক মাছের আকার বড় হয়েছে বলে জেলেরা তাকে জানিয়েছেন।

    দ্বীপের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শওকত ইকবাল মুরাদ সরেজমিন মাছগুলো দেখে এসে জানান, জেলে হোসেন ও তার ছেলে মোজাম্মেল এমনই হতদরিদ্র যে, তাদের পরিবারে মোবাইল ফোনও নেই। তিনি জানান, মাতারবাড়ী দ্বীপের একদম সাগর তীরবর্তী পানিতে মঙ্গলবার রাতে বাপ-বেটা জাল ফেলেছিলেন। গভীর রাতে পিতা হোসেনের নৌকাটিতে টান পড়ে। একটি বড় আকারের মাছের ঝাঁক জালে আটকা পড়ে লাফালাফি করায় নৌকাটিও ভেসে যাচ্ছিল।
    আটকা পড়া মাছ নিয়ে গতকাল বুধবার সকাল ১০/১১ টার দিকে তীরে উঠে আসনে বাপ-বেটা। এরপরই চারিদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে। কক্সবাজার থেকে মাছ ব্যবসায়ীরাও খবর পেয়ে ছুটে যান মাছ কিনতে। দরদাম করে জাফর সওদাগর, সিরাজ সওদাগর ও মনু সওদাগর মিলে পোয়া মাছগুলো কিনেন নেন ৪০ লাখ টাকায়। এসব মাছের সর্বনি¤েœ রয়েছে প্রতিটি ১৫ কেজি এবং সর্বোচ্চ ওজন হচ্ছে ৩৭ কেজি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ