• শিরোনাম

    ৮৯ হাজার সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করবেন ৪৪ হাজার ৪৬০ নারী

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

    ৮৯ হাজার সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করবেন ৪৪ হাজার ৪৬০ নারী

    গ্রামের ৮৮ হাজার ৯২০ কিলোমিটার সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে ৪৪ হাজার ৪৬০ নারীকে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করে তাদের হতদরিদ্র অবস্থা থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে।
    মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি প্রকল্প-৩ (আরইআরএমপি-৩) উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭২৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব মো.নূরুল আমিন সারাবাংলাকে বলেন, প্রকল্পটি একনেকের তালিকায় রয়েছে। এটি পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যেহেতু তালিকা আছে তাই এটি আর বাদ পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে অনুমোদন দেওয়া না দেওয়া নির্ভর করে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসনের উপর।

    প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালে বন্যা ও দুর্ভিক্ষ মোকাবিলার জন্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। সে সময় লক্ষ্য ছিল খাদ্য সহায়তার মাধ্যমে স্বল্প মেয়াদে কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখা। কিন্তু গ্রামীণ দুঃস্থ নারীদের দারিদ্র্য কমাতে সারা বছরব্যাপী কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৮৩ সালে কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সীর (সিডা) খাদ্য সহায়তায় বিক্রয় করা অর্থে কেয়ার বাংলাদেশ এর মাধ্যমে ৭টি ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্প হিসেবে পল্লী রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে এই কর্মসূচি ১ হাজার ৮০০টি ইউনিয়নে বিস্তৃত হয়। পরবর্তীতে যেটি হাওর ও পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া দেশের ৪ হাজার ৬টি ইউনিয়নে বিস্তৃত করা হয়। সে সময় সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করতো ‘কেয়ার’।

    এরপর ১৯৯৫-২০০২ সাল পর্যন্ত এলজিইডি এবং কেয়ার যৌথভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করে। ২০০৩-২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় বাস্তবায়িত হয়। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রুরাল মেইনটেনেন্স প্রোগ্রাম এর পরিবর্তে রুরাল এমপ্লয়মেন্ট এন্ড রোড মেইনটেনেন্স প্রোগ্রাম হিসেবে বাস্তবায়িত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় কর্মসূচিটির দ্বিতীয় পর্যায় ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রকল্পটির তৃতীয় পর্যায় প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে পল্লী সড়কগুলো সারাবছর রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে চলাচল উপযোগী করা হবে। সেই সঙ্গে ৪৪ হাজার ৪৬০ নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

    এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষেণের মাধ্যমে পল্লী সড়কগুলো সারা বছর চলাচল উপযোগী থাকবে এবং ৪৪ হাজার ৪৬০ জন নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি প্রকল্প এলাকার সহজ এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণে সুবিধা এবং গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা দারিদ্র বিমোচনে সহায়ক হবে।

    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ