সিরাজুল ইসলাম রাব্বি | উখিয়া : | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | 25 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ভালুকিয়া এলাকায় নিখোঁজ শিশু ইশরাত জাহান নুসাইবাকে উদ্ধারে নতুন করে তৎপর হয়েছে পুলিশ। নিখোঁজের ছয় দিন পর বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান শিশুটির বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করার আশ্বাস দেন।
বিকেল ৪টার দিকে নুসাইবার বাড়িতে পৌঁছে ওসি কান্নারত মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। তিনি ঘটনার শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত সব তথ্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। এ সময় তিনি পরিবারকে আশ্বস্ত করে জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সম্ভাব্য সব দিক অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
ওসির এই সরাসরি পরিদর্শনের পর দীর্ঘদিন ধরে উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের এই নজরদারির ফলে উদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
নুসাইবার পরিবার জানায়, গত কয়েকদিন ধরে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। তবে ওসি নিজে বাড়িতে এসে খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনায় তারা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা, তাদের আদরের সন্তানকে দ্রুত সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পাওয়া।
স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছে, পুলিশের এই উদ্যোগ তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া (মাঝের পাড়া) এলাকার নিজ বাড়ির আঙিনা থেকে সবার অজান্তে বের হয়ে যায় আড়াই বছরের শিশু ইশরাত জাহান নুসাইবা। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
নিখোঁজ শিশুর বিবরণ অনুযায়ী, নুসাইবার পিতা মো. শাহাজাহান এবং মাতা মালেকা বেগম। তাদের বাড়ি রত্নাপালং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়া এলাকায়।
শিশুটির সন্ধান পেয়ে থাকলে ০১৮৮০-৮৯৭৩০৪ নম্বরে অথবা উখিয়া থানায় যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিবারের আশা, কোনো সহৃদয়বান মানুষের একটি তথ্যই তাদের সন্তানের ফিরে আসার পথ সুগম করতে পারে।