দেশবিদেশ ডেস্ক: | শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 99 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও, চলতি বছর পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন সজিব জানান, শনিবারই শেষবারের মতো সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো পর্যটকদের নিয়ে দ্বীপে যাবে। রবিবার থেকে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। তবে সরকার পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সেন্টমার্টিনে রাতের বেলায় সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান বাজানো ও বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ ছিল। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।
এছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না-এমন কঠোর নির্দেশনাও জারি ছিল। সৈকতে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। পলিথিনসহ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনের মতে, দীর্ঘ সময় পর্যটক না থাকলে প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাস পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবে। অতিরিক্ত পর্যটক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জীববৈচিত্র্যকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই এই দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে নেওয়া এই পদক্ষেপ সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে প্রশাসন।