সোমবার ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

জোরপূর্বক অপহরণ থেকে মিথ্যা মামলা- প্রেমের বিয়ের জেরে নৃশংসতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   394 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জোরপূর্বক অপহরণ থেকে মিথ্যা মামলা- প্রেমের বিয়ের জেরে নৃশংসতা

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় ভালোবেসে বিয়ের পর এক দম্পতিকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, মিথ্যা প্রচারণা ও আইনি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন বরুণ কান্তি দে ও তার স্ত্রী শতরূপা দে। শতরূপা দে’র পিতা পথিক চন্দ্র দে এবং মাতা স্বপ্না রানী দে। তাদের বাড়ি মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায়। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ভালোবেসে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই শতরূপা দে’র পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি। একপর্যায়ে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে কৌশলে শতরূপা দে’কে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় পরিকল্পিতভাবে তার সঙ্গে বিয়ের গয়না, টাকা-পয়সা ও প্রয়োজনীয় মালামাল দুটি লাগেজে নিয়ে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। এ সময় শতরূপা দে মোবাইল ফোনে স্বামী বরুণ কান্তি দে’কে এসএমএস করে জানান, তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে শতরূপা দে’র পরিবার-পরিজন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি টানা দুই দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।

চিকিৎসা শেষে মামার বাড়িতে নেওয়ার কথা বলা হলেও সেখানে পৌঁছানোর পর বরুণ কান্তি দে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি স্ত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন।

পরদিন পুলিশ নিয়ে উদ্ধার অভিযানে গেলে অভিযুক্তরা শতরূপা দে’কে পাশের একটি বাড়িতে লুকিয়ে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শতরূপা দে সেখানে নেই। এ অবস্থায় প্রশাসন অভিযান স্থগিত করে ফিরে আসে।

পরবর্তীতে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শতরূপা দে’র দাদু রুনু কুমার দে, মা স্বপ্না রানী দে ও বড় ভাই যুবরাজ দে মহেশখালী আসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে স্থানীয়দের গোপন তথ্যে বিষয়টি প্রকাশ পায়। যেহেতু এ ঘটনায় মহেশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) চলমান ছিল, তাই ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানানো হয়। পরে মহেশখালী ঘাট এলাকা থেকে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায় এবং শতরূপা দে’কে পুনরায় তার পরিবার-পরিজনের জিম্মায় দেওয়া হয়।

এদিকে বরুণ কান্তি দে’র বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করা হচ্ছে যে তিনি নাকি তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটকে রেখেছিলেন। এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে দাবি করেছেন বরুণ কান্তি দে। তার অভিযোগ, শতরূপা দে’র মামার বাড়ির লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছে।

ভুক্তভোগী বরুণ কান্তি দে বলেন,
“আমি ও আমার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমার স্ত্রীকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গোপন সূত্রে জানতে পেরেছি, তাকে অবৈধভাবে ভারত নিয়ে গিয়ে বিয়ের আয়োজন করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শতরূপা দে’র কাকা পাভেল—যিনি এলাকায় ‘ডেভিল পাভেল’ নামে পরিচিত এবং একটি রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত—এই ঘটনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। স্থানীয় সমাজ কমিটি ও সচেতন মহল তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঘটনাটি আইন, মানবাধিকার এবং নারীর নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com