শনিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

আইন উপেক্ষা করে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি : ধ্বংসের মুখে দেশীয় হ্যাচারি শিল্প

বার্তা পরিবেশক   |   বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   38 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আইন উপেক্ষা করে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি : ধ্বংসের মুখে দেশীয় হ্যাচারি শিল্প

আইন ও সরকারি নীতিমালাকে কার্যত অগ্রাহ্য করে মৎস্য অধিদপ্তর ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নাপলি (Nauplii) আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এমন গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে মৎস্য ও চিংড়ি খাতে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু আইনবহির্ভূতই নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে দেশীয় চিংড়ি হ্যাচারি শিল্প ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার শামিল।

তথ্য অনুযায়ী, মৎস্য অধিদপ্তর ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রি. তারিখে ৩৩.০২.০০০০.১২০.১০.০০১০.২৫.৮৩৭ নম্বর পত্রের মাধ্যমে সাতক্ষীরার দেবহাটার পুরুলিয়া বাজারের “তৌফিক এন্টারপ্রাইজ”-এর অনুকূলে ভারত থেকে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি প্রদান করে। পরবর্তীতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৩ ডিসেম্বর তারিখে ওই অনুমতির ভিত্তিতে আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। অনুমতি অনুযায়ী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার “বিধা ফিশ ট্রেডার্স”-এর কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ নাপলি আমদানি করা হবে।

খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, মৎস্য অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি ২০২৩ সালে প্রণীত ভেনামি চিংড়ি উৎপাদন নীতিমালা এবং “মৎস্য সঙ্গনিরোধ বিধিমালা, ২০২৪”-এর চরম লঙ্ঘন। বিদ্যমান বিধিমালায় ভেনামি চিংড়ির ক্ষেত্রে কেবল ব্রুড, পিপিএল ও পিএল আমদানির বিধান থাকলেও নাপলি আমদানির কোনো আইনি সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে- কোন আইনের ভিত্তিতে এই অনুমতি দেওয়া হলো?

অপরদিকে, দেশে বর্তমানে ভেনামি চিংড়ির পিএল উৎপাদনের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত ৬টি হ্যাচারি কার্যক্রম চালু রয়েছে। এসব হ্যাচারি নিয়মিতভাবে ব্রুড ও পিপিএল আমদানি করে মানসম্মত পিএল উৎপাদন করছে এবং কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলক ভেনামি চাষে প্রয়োজনীয় পিএল সরবরাহ করে আসছে। এমন বাস্তবতায় আলাদাভাবে নাপলি বা পিএল আমদানির কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হ্যাচারি মালিক শাহেদ আলী, মোহাম্মদ আলমগীর, ভুলু চৌধুরী ও সালেহীন মাহিয়ান অভিযোগ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অনুমতি অব্যাহত থাকলে দেশের চিংড়ি হ্যাচারি শিল্প কার্যত অচল হয়ে পড়বে। শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বেন। এতে একদিকে যেমন দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে আমদানিনির্ভর একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার আশঙ্কাও করছেন তারা।

বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, শুধু ভেনামি নয়- বাগদা ও গলদা চিংড়ির ক্ষেত্রেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নাপলি ও পিএল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

এ অবস্থায় খাত সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে “তৌফিক এন্টারপ্রাইজ”-এর অনুকূলে দেওয়া ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি বাতিল, অন্যান্য অনুরূপ অনুমোদন প্রত্যাহার এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব) সভাপতি সাবেক এমপি লুৎফর রহমান কাজল, মহাসচিব গিয়াস উদ্দিন।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com