| বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 29 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইরান যুদ্ধের কারণে ইউরোপে জেট ফুয়েলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। অবশিষ্ট জেট ফুয়েল দিয়ে আর মাত্র ছয় সপ্তাহ কাজ চালানো যাবে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক না হলে খুব শিগগিরই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা শুনব যে জেট ফুয়েলের অভাবে শহর ‘এ’ থেকে শহর ‘বি’-এর কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হতে পারে।’
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সারা দেশে অবৈধ মজুতকৃত ৪৬৯০৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার
বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এখন ৩০ শতাংশের বেশি। জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এখনও সরাসরি জেট ফুয়েলের ঘাটতি দেখা দেয়নি। কারণ যুদ্ধ শুরুর আগে পাঠানো চালানগুলো ইউরোপে পৌঁছাতে থাকায় সরবরাহ কিছুটা বজায় ছিল। তবে সর্বশেষ চালানগুলো ইতোমধ্যেই ইউরোপে পৌঁছে গেছে।
বিরোল বলেছেন, ইউরোপে ‘সম্ভবত ছয় সপ্তাহের মতো জেট ফুয়েল অবশিষ্ট রয়েছে’। তার এই মন্তব্যের সঙ্গে ইউরোপের এয়ারপোর্ট কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনালের সতর্কবার্তার মিল রয়েছে। এই সংস্থাটি গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জ্বালানি ও পরিবহন কমিশনারদের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, ইউরোপ তিন সপ্তাহের মধ্যেই ঘাটতির মুখে পড়তে পারে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাভাবিক সময়ে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলো প্রায় ছয় সপ্তাহের জ্বালানি মজুত রাখে। তবে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় অতিরিক্ত মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বিকল্প হিসেবে অন্যান্য সরবরাহকারীদের পর্যাপ্ত জেট ফুয়েল জোগান দেয়ার সক্ষমতা নেই।