| বুধবার, ২০ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 30 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক নারীসহ দুইজনকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে আলোচিত শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসির উদ্দীন, তার ছেলে কথিত কিশোর গ্যাং লিডার সোহাদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহতদের ছেলে মো. রায়হান নূর রনি বাদী হয়ে গত ১৮ মে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর থেকে আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়া এলাকার পিটিআই স্কুল সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত হন শাহিনা আক্তার (৪০) ও তার স্বামী মো. নূর।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসির উদ্দীন ও তার পরিবারের সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই বাসার সামনে গিয়ে দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলামাত্রই তারা অতর্কিত হামলা চালায়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান আসামি সোহাদ ধারালো ছুরি দিয়ে শাহিনা আক্তারকে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। এতে তার শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে মো. নূরকেও ছুরিকাঘাত ও মারধর করা হয়। হামলায় অন্য আসামিরা লাঠি ও লোহার রড ব্যবহার করেছে বলেও এজাহারে বলা হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে শাহিনা আক্তার অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার মামলা নং-৪৫, জিআর-৩৩১, তারিখ: ১৮ মে ২০২৬।
মামলার এজাহারে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসির উদ্দীন (৪৮), তার ছেলে কথিত কিশোর গ্যাং লিডার সোহাদ (২০), জামাতা নাছের উদ্দিন ছিদ্দিক (৩৫), মেয়ে কারিশমা জান্নাত উর্মি (২৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন।
এর আগে শালিক রেস্তোরাঁর জিএম মুজিবুর রহমানকে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায়, চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগ ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে নাসির উদ্দীন ও তার স্ত্রীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছিল।
একাধিক ঘটনায় একই পরিবারের নাম উঠে আসায় কক্সবাজার শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ধারাবাহিক এসব ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।