মাহাবুবুর রহমান সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | 106 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সদর উপজেলা খুরুশকুল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের হামজার ডেইল এলাকার আয়েশা বেগম বলেন,আমার ছেলে রহিম উল্লাহকে ২৪ জানুয়ারী বোটে করে মালয়েশিয়া নিয়ে যায়,পার্শবর্তি ইউনুচ। পরে ৪ দিন পরে ছেলে ফোন করে আমাকে বলেছে টাকা না দিলে দালালরা আমাকে মেরে ফেলবে। তাই মেয়ে স্বর্ণ বিক্রি করে কিস্তি নিয়ে ইউনুচের স্ত্রী রোজিনাকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়েছি। এর পর থেকে ছেলের আর কোন খোঁজ নেই। শুনেছি সে মালয়েশিয়া তাও নিশ্চিত নয়। ছেলের চিন্তায় আয়েশা বেগমের চোখের পানি আর থামছে না।
ঘোনারপাড়া এলাকার সেলিনা আক্তার বলেন,আমার ছেলেকে ২ বছর আগে ইউনুচ নিজে বোটে করে নিয়ে যায়। পরে পরে শুনেছি ছেলে নাকি মৃত্যু বরণ করেছে। তার লাশটিও আমি দেখতে পারিনি।
একই এলাকার কহিনুর আক্তার বলেন,৫ দিন আগে ইউনুচ আমার স্বামী আবদুল মালেককে বোটে করে পাচার করে দিয়েছে। এখন বলছে ৪ লাখ টাকা দিতে হবে। না হলে স্বামীকে ফিরে পাব না। আমি দিনে এনে দিনে খায় কিভাবে ৪ লাখ টাকা দেব।
পার্শবর্তি আরেকজন মহিলা বলেন,আমি নিজে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়েছি ইউনুচের স্ত্রী রোহিনাকে সব প্রমান আমার হাতে আছে। তবে ছেলে নাকি মালয়েশিয়া পৌছেছে।
এভাবে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষকে মালয়েশিয়া পাচার করেছে ইউনুচ রোজিনা সহ শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
এ সময় স্থানীয় অসংখ্য মানুষ দাবী করেন কয়েক বছর যাবত ইউনুচ ও তার স্ত্রী মানবপাচার করে আসছে। এছাড়া ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। তাদের কাছে এলাকার জনপ্রতিনিধি আওয়ামীলীগ নেতা,বিএনপি নেতা সবাই জিম্মি,কারন তাদের টাকা আছে। আমরা গবীর মানুষের কথা কেউ শুনেনা। আমরা ইউনুচ ও রোজিনা সহ তাদের সিন্ডিকেটে সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি।
এ সময় ভোক্তভোগীরা জানান,ইউনুচের পূর্ব পুরষ রোহিঙ্গা ছিল ইউনুচের আরেক ভাই শহরের পাহাড়তলী সাত্তারঘোনা থাকা রহমত উল্লাহ। সে সহ সবাইকে এলাকার মানুষ রোহিঙ্গা হিসাবেই চিনে। তারাও মানবপাচার ইয়াবা পাচার সহ বহু অপরাধের সাথে জড়িত।
এ ব্যপারে খুরুশকুল ঘোনারপাড়ায় গিয়ে মানবপাচারকারী ইউনুচের বাড়ি দিয়ে দেখা গেছে ইউনুচ বর্তমানে সাগরে আছে। এ সময় তার স্ত্রী রোজিনা বলেন,এগুলো তার স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তবে ইউনুচের বিরুদ্ধে ৪ টি মামলা আছে বলে নিজেই শিকার করেন ইউনুচের স্ত্রী রোজিনা।
হামজার ডেইল এলাকার গিয়ে দেখা গেছে, মানবপাচারকারী ইউনুচ বর্তমানেও সাগরে আছে সেখানেও হামজার ডেইল এলাকার আবদুল মালেক সহ বেশ কয়েকজনকে বোটের মাধ্যমে মালয়েশিয়া পাচার করেছে। তাই ইউনুচের স্ত্রী রোজিনার কাছে ৪ লাখ টাকা দেওযার জন্য পাগলের মত খুরছে মালেকের স্ত্রী কহিনুর।
এ ব্যপারে খুরুশকুল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শপন দে বলেন,এটা আমি জানতাম না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো সত্যি হলে পরিষদের পক্ষ থেকে লিখিত ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাবো। মানবপাচারকারীদের কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ব্যপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো:আবদুল মান্নান বলেন,মানবপাচারকারীেেদর কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কেউ অভিযোগ করলে ভাল হবে।
খুরুশকুল হামজার ডেইল ,ঘোনারপাড়া এলাকার মানুষের দাবী আর কত মানুষের লাশ দেখলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে। আর কত মানবপাচার হলে প্রশাসন এই রোহিঙ্গা ইউনুচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ।