বিশেষ প্রতিবেদক | বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 31 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কক্সবাজার শহরের ন্যায় পর্যটন এলাকার মেরিনড্রাইভ রোডে অবৈধ মোটরসাইকেল এর বিচরণ বেপরোয়া ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রেন্ট এ বাইকের নাম দিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু যুবকরা কাগজপত্র ও লাইন্সেস বিহীন অবৈধ মোটরসাইকেল পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন। আর এই অবৈধ মোটরসাইকেল নির্বিঘেœ চলাচলে সুযোগ করে দিচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশ, হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ও ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির কর্মরত ইনচার্জরা। ফলে বিনিময়ে প্রতিমাসে অবৈধ গাড়ি ব্যবহারকারি রেন্ট এ বাইক ব্যবসায়িদের কাছ থেকে আদায় করে নিচ্ছেন প্রায় ৩ লাক্ষাধিক টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রোড কেন্দ্রিক রেন্ট এ বাইক ব্যবসায় নেমেছেন অন্তত শতাধিক যুবক। যারা রাস্তা, ফুটপাত ও বিভিন্ন মার্কেটের সামনের পার্কিং দখল করে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তৎমধ্যে বিশেষ করে সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলীর মোড়, বেলী হ্যাচারী পয়েন্টসহ কলাতলীর মোড় থেকে জমজম হ্যাচারী পর্যন্ত রোডে রয়েছে শতাধিক রেন্ট এ বাইক ভাড়া দেওয়ার পয়েন্ট। যা সব গুলোই বসেছে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে। তবে শতাধিক পয়েন্টে রয়েছে তিন শতাধিক অবৈধ মোটরসাইকেল। যা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শুধু মাত্র অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলছে মেরিন ড্রাইভ রোডে।
সরেজমিনে কলাতলীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভারসিটি সামনে গিয়ে কথা হয় পাবনা থেকে আসা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী রিয়াজ মাহামুদ এর সাথে। সে তিন ঘন্টার জন্য দেড় হাজার টাকা দিয়ে ইয়ামাহা আর ওয়ান ফাইভ নামের একটি বাইক ভাড়া নেন। চুক্তি করার পর রাস্তায় পুলিশে ধরার অজুহাতে রেন্ট বাইক ব্যবসায়ির কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র চাইলে তাকে পুলিশের সাথে মাসিক চুক্তি আছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি গাড়ি কোন জায়গায় আটক করবেনা বলে নিশ্চিত করা হয়। এই বিষয়ে রিয়াজ জানান, আমাদের শহরে প্রোপার ডকুমেন্ট ছাড়া বাইক চালানো সম্ভব না। তবে কক্সবাজার এসে দেখলাম এখানে কোন ডকুমেন্ট লাগেনা। অধিকাংশ বাইকের বৈধ কাগজপত্র নেই। তাছাড়া প্রায় বাইক বর্ডার ক্রচ। রিয়াজ আরো জানান, আরো অভাক করার বিষয় হচ্ছে কক্সবাজারে মোটরসাইকেল চালাতে লাগেনা হেলমেট ও মোটরসাইকেলের লাইসেন্স।
একইভাবে ঢাকা যাত্রাবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ি রবিন হাওলাদার বলেন, কক্সবাজার এসে প্রতি ঘন্টা ৩০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়েছি। তবে তেমন কোন ঝামেলায় পড়তে হয়নি। টেকনাফ যাওয়ার সময় হিমছড়িতে পুলিশ কাগজপত্রের জন্য আটক করে। পরে গাড়ির মালিককে মোবাইলে কথা বলিয়ে দেওয়ার পর ছেড়ে দেয়। পরে জানলাম পুলিশের সাথে ব্যবসায়িদের মাসিক চুক্তি রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেন্ট এ বাইক ব্যবসায়ি বলেন, রেন্ট বাইক নিয়ে যারা ব্যবসা করছে তাদের মধ্যে অবৈধ গাড়ি ব্যবহারকারি ব্যবসায়িরা মাসিক মাসোহারা দিয়েই করছে। মাসের শেষে টাকা তোলে সমিতির কতিপয় নেতা কিংবা পুলিশের পাঠানোর সোর্স এর মাধ্যমে প্রত্যেক স্থানের পুলিশের টাকা পৌছেঁ দিতে হয়। তৎমধ্যে ট্রাফিক পুলিশ কলাতলী বক্স, হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি, ইনানী পুলিশ ফাঁড়ি ও রেজুখাল ব্রীজ চেকপোস্ট।
মাসোহারা আদায়ের ব্যাপারে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির আইসি ইন্সপেক্টর সোমনাথ বসু জানান, মোটরসাইকেল বা যানবাহন আটক করা ট্রাফিকের কাজ। এই জন্য হিমছড়ি ফাঁড়ির পুলিশ অভিযান করেনা। তবে মাসের শেষে মোটা অংকের মাসোহারা গ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেয়ার প্রমান নেই। অন্য কেউ নিলে তার দায়ভার সে নেবে।
এদিকে মাসিক উল্লেখিত মাসোহারা আদায়ের ব্যাপারে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, রেন্ট এ বাইক থেকে মাসিক টাকা আদায়ের ব্যাপারে আমার জানা নেই। যদি হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কেউ এই কাজ করে থাকে তাহলে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হবে।
কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর(প্রশাসন) খসরু পারভেজ বলেন, অবৈধ ও লাইন্সেস বিহীন মোটরসাইকেল এর বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগের ধারাবাহিক অভিযান চলছে। সম্প্রতি কয়েক দিনে বেশ কিছু অবৈধ মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে। তবে মেরিন ড্রাইভের কোন পয়েন্টে কোন সময় অভিযান করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি কোন প্রকার জবাব দিতে পারেননি।
এদিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার বলেন, আমি সম্প্রতি সময়ে বেশ কয়েকজনের মাধ্যমে জেনেছি মেরিন ড্রাইভে অবৈধ মোটরসাইকেল চলাচলের বিষয়টি। তবে এই অবৈধ মোটরসাইকেল চলাচলে যদি কোন অসাধু পুলিশের সহযোগিতার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি এই অবৈধ মোটরসাইলের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।