শফিকুর রহমান | শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 36 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
খামারবাড়ি ধ্বংস করে আগুনে পুড়িয়ে দিছে
মহেশখালী রেঞ্জের ঘটিভাঙ্গা বিট কর্মকর্তা বিভাষ কুমার মালাকার বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি ১৯২৭ সালের বন আইন (সংশোধিত ২০০০) এর ২৬(১) ও ২৬(২ক) ধারার উপধারা (ক), (খ), (ঘ) ও (ড) অনুযায়ী রুজু করা হয়েছে।
মামলায় কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ কামাল, স্থানীয় মেম্বার, সাবেক জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতরের পর থেকেই সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা মৌজার প্রায় ৫ হাজার একরেরও বেশি জীবন্ত প্যারাবন কেটে ফেলে। শুধু গাছ কেটে থেমে থাকেনি তারা-বনভূমিতে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে পরে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে সেখানে চিংড়ী ঘের ও লবণ মাঠ তৈরি করা হয়।
উল্লেখ্য, সোনাদিয়া দ্বীপে বন উজাড় ও দখল নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত দুই দশক ধরে প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং প্রভাবশালী চক্রের দখল নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে পরিবেশ অধিদপ্তর মামলাও করে এবং প্রশাসন অবৈধ স্থাপনা অপসারণে অভিযান চালায়।
স্থানীয়দের মতে, এই প্যারাবন মহেশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করত। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জনপদকে রক্ষা করত এই বন। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে এই বন উজাড় করায় পুরো এলাকা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ ধরনের ব্যাপক বন ধ্বংসের ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, মাটির ক্ষয়, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যাবে। এতে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি পাচঁ থেকে ছয়শত কোটি টাকার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
এর আগেও একাধিকবার এসব ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তারা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সস্তা শ্রমিক এনে প্যারাবন নিধনে ব্যবহার করছে।
এদিকে, মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একাধিক চিংড়ী ঘের, খামারবাড়ি ধ্বংস করে এবং ব্যবহৃত স্কেভেটর জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, সোনাদিয়া দ্বীপের বনভূমি দেশের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় পরিবেশের অংশ। কোনোভাবেই সংরক্ষিত বনভূমি দখল বা গাছ নিধন বরদাশত করা হবে না। প্রশাসন, বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও বন রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহেশখালী থানার ওসি মোঃ আব্দুস সুলতান মামলাটি রুজু করেন (মামলা নং-০৫)। বর্তমানে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার এসআই কাজল দাশকে।
এই বিষয়ে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুলতান জানান- মামলা এখন তদন্তে আছে এবং তদন্ত করে আসল অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি