সোমবার ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
বখতিয়ার মেম্বারের মোটরসাইকেলসহ আটক

উখিয়ায় ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার নিয়ে তোলপাড়: এজাহারে দেখানো হলো মাত্র ৬৭ হাজার ২০০ পিস

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   |   রবিবার, ১৭ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   25 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

উখিয়ায় ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার নিয়ে তোলপাড়: এজাহারে দেখানো হলো মাত্র ৬৭ হাজার ২০০ পিস

ডিএনসির অভিযানে সাবেক ইউপি সদস্যের মোটরসাইকেলসহ আটক বাহক ইসহাক; অভিযোগ উঠেছে উদ্ধারকৃত ইয়াবার বড় অংশ গোপনের

কক্সবাজারের উখিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) টেকনাফ অঞ্চলের একটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দকে ঘিরে রহস্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযানে কমপক্ষে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও মামলার এজাহারে দেখানো হয়েছে মাত্র ৬৭ হাজার ২০০ পিস। একইসাথে ইয়াবার কথিত মূল হোতাদের নাম বাদ দেওয়ায় উঠেছে নানা প্রশ্ন।

১৪ মে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়ার সোনারপাড়া সড়কে পরিচালিত অভিযানে ইয়াবাবাহী একটি মোটরসাইকেলসহ ইসহাক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে ডিএনসির আভিযানিক দল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আটক ইসহাকের কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবার বড় একটি অংশ এজাহারে গোপন রেখে মাত্র ৬৭ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য দেখিয়ে উখিয়া থানায় মামলা হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো- এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কথিত মূল মালিকদের নামই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, পালংখালীর বালুখালী এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য বখতিয়ার ও তার ভাই জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন এবং আটক ইসহাক তাদের বিশ্বস্ত বাহক হিসেবে কাজ করতেন। অভিযানে আটক মোটরসাইকেলটিও সাবেক ইউপি সদস্য বখতিয়ারের ব্যবহৃত এমটি-৫০ মডেলের বলে জানা গেছে।

এদিকে অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ অঞ্চলের সহকারী পরিচালক কাজী দিদারুল আলম প্রথমে পুরো ঘটনাই অস্বীকার করেন। পরে অভিযানের কথা স্বীকার করলেও উদ্ধারকৃত ইয়াবার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পরবর্তীতে উখিয়া থানায় খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, ডিএনসির দায়ের করা এজাহারে মাত্র ৬৭ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা উল্লেখ রয়েছে এবং আসামি করা হয়েছে শুধুমাত্র বাহক ইসহাককে। এতে ইয়াবার মূল হোতা ও সিন্ডিকেট সদস্যদের আড়াল করার অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন- প্রকৃতপক্ষে কত ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল এবং কেনইবা মূল অভিযুক্তদের নাম এজাহারে আসেনি? এখন সচেতন মহল এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করছে।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com