দেশবিদেশ ডেস্ক: | বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 15 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি এবং মার্চে ৩১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। অর্থাৎ, মাত্র তিন মাসেই ৮৫৪টি খুন সংঘটিত হয়েছে। একই সময়ে ঢাকায় ১০৭টি হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি কক্সবাজারে প্রায় ২০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
পর্যটননগরী কক্সবাজারেও সহিংসতা থামছে না। বিশেষ করে টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় মাদক কারবার, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার এবং স্থানীয় দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। সম্প্রতি টেকনাফের পাহাড়ি এলাকা থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ঘটনার পেছনে সক্রিয় রয়েছে মাদক সিন্ডিকেট ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক।
চলতি মাসেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ধর্মসিং চাকমা নিহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই নারী গুরুতর আহত হন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র (এআইজি, মিডিয়া) এএইচ এম শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, “যারাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে পুলিশের নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, জামিনপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিদেশে অবস্থান করেও তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত। রাজধানীর অন্তত ২০টি এলাকায় তাদের অর্ধশতাধিক সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও তাদের হুমকির মুখে পড়ছেন।
শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের চাঁদাবাজিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বাজার, ফুটপাত ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণেও প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে এসব অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে- ফলে অনেক ভুক্তভোগী ভয়ে কোথাও মুখ খুলতে পারছেন না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, জামিনে বের হওয়া সন্ত্রাসীরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কেউ বিদেশ থেকে ফোনে নির্দেশনা দিচ্ছে, আবার কেউ দেশে থেকেই সরাসরি অপরাধ পরিচালনা করছে। কিশোর ও তরুণদের ব্যবহার করে অপরাধচক্র আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, কুপিয়ে হত্যা, গুলি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর, কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগীরা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংগঠিত অপরাধচক্রের বিস্তারই হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং জামিনপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব- এই চারটি কারণ হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। ঢাকা ও কক্সবাজারে অপরাধের ধরন ভিন্ন হলেও এর পেছনে সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্কই মূল চালিকাশক্তি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে। তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশজুড়ে বাড়তে থাকা হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ঢাকা ও কক্সবাজারে সংগঠিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।