সিরাজুল ইসলাম রাব্বি-উখিয়া প্রতিনিধিঃ | শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 92 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইল পাড়ায় ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর হামলা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে দুই নারীসহ চারজন রয়েছেন। তারা বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন— মনজুর আলম (৩৮), পেশায় ব্যবসায়ী; তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২০); ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কোহিনূর আক্তার কাজল (২৭); এবং জাহাঙ্গীর আলম (৩৬), ব্যবসায়ী।
অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে একই এলাকার শহিদুল আলম (২৫), মোবারক (২৫), সৈয়দ হোসেন প্রকাশ বান্টু, আরাফাত ও নাজিমসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে ১৩ তারিখ বিকেলে মঞ্জুর আলমকে প্রথম দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি গুরতর আহত হন। মনজুর আলমকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তাকে শার্টের কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
পরদিন অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে আবার মনজুর আলমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের চুল ধরে টানা-হেঁচড়া করা হয় এবং লাঠিসোটার আঘাতে হাতের আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পাশাপাশি শালীনতাহানির অভিযোগও তোলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে (জামায়ত ইসলামি)সমর্থন ও নির্দিষ্ট প্রতীকে (দাড়িপাল্লা)ভোট দেওয়ার কারণেই তাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে অতীতে পারিবারিক সহিংসতার একটি অভিযোগ ছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।