এম.আবদুল্লাহ আনসারী.পেকুয়া | সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 310 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সারা বাংলাদেশের ন্যায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা জুঁড়ে অনলাইন জুঁয়ার ব্যাপক প্রবনতার ফাঁদে পড়ে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে হাজার হাজার পরিবার। নিত্যদিন চোখে পড়ছে অনলাইন জুয়ার কারনে চুরি ছিনতাই সহ পারিবারিক কলহ। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ছেলে বাবা মার গচ্ছিত সম্পদ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খরচের সম্পদও চুরি বা লুট করে নিয়ে আসছে অনেক সময় নিয়ে আসতে গিয়ে বাবা মা সন্তানের হাতে মারধর এমনকি হত্যারও শিকার হচ্ছে। জুয়াড়ি স্বামীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছে গৃহবধু। জুয়াড়িরা গৃহস্থ মালামাল টিউবওয়েলের উপরাংশ নিয়ে যাচ্ছে। পথচারীর মোবাইল ছিনিয়ে নিচ্ছে।
শহর থেকে গ্রামে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার নেশা। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় দিন দিন তরণদের মধ্যে এই অবৈধ কার্যক্রম ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে। প্রতিদিন অনলাইন বেটিং সাইড ও ক্যাসিনো গেইমের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হারাচ্ছেন। জুয়ায় আসক্তি হয়ে পড়েছে অনেক গৃহবধুও এমনও সংবাদ রয়েছে। প্রতিদিন শুধু জোয়ার কারণে অসংখ্য সালিশ বিচারের আয়োজন হচ্ছে গ্রাম মহল্লায়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সহজে অর্থ আদায় ও কোটিপতির প্রলোভনে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে প্রবাসফেরত যুবকরাও এই জুয়ার ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছে। প্রথমে ছোট অংকের বাজি দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে বড় অংকের টাকা হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ফলে ঋণের বোঝা ও পারিবারিক কলহ বাড়ছে প্রতিনিয়ত ভাঙছে সংসার। ঋণের চাপে পড়ে অনেকে বেচে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ।
পেকুয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরা জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়া বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তারপরও সচেতনতার অভাব ও সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে এই ধ্বংসকারী জুয়া ঠেকানো যাচ্ছে না।
স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলেছেন, পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সম্মলিত পদক্ষেপে অনলাইন জুয়া থেকে যুবসমাজকে বাচাঁতে হবে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন বিকাশ দোকানদার বলেছেন, অনলাইন জুয়াড়িদের কারণে তারা ব্যবসা বানিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। জুয়াড়িরা ক্রেতার ভেসে এসে নিজেদের নাম্বারে ও জুয়ার এজেন্টদের নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে অভিনব কৌশলে পালিয়ে যান।
বারবাকিয়ার রেজাউল করিম জানান, এলাকার উঠতি বয়সী কিশোর ও যুবকরা প্রতিদিন হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অনলাইন জুয়ায় মগ্ন থাকে। পরে অনলাইনে সব হারিয়ে রাত হলে চুরি ছিনতাইয়ের মত ঘটনা ঘটাচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা দায়েরা জ্জ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ (পিপি) এডভোকেট মীর মোশারফ হোছেন টিটু বলেছেন, অনলাইন জুয়া সামাজিক মরনব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিরোধ করতে না পারলে সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে।
সমাজ প্রতিনিধি মাষ্টার দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিদিন খবরের পাতা আর অনলাইনে ডুকলেই দেখা যায় অনলাইন জুয়ার কারণেহত্যা,আত্মহত্যা, মারামারি, ছিনতাই ও চুরি মত ঘঠনা ঘটছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয় দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এখনি যদি এই জুয়া থেকে দেশের যুবসমাজকে বের করে আনা না যায় তাহলে এদেশের অর্থনীতি লুট হয়ে যাবে। সামাজিক নিরাপত্তা ধ্বংস হয়ে যাবে। অনলাইন জুয়ার ব্যাপারে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল মোস্তফার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে কোন জুয়াড়িকী পাইলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিভিন্ন আইনশৃংখলা মিটিং এ থানা প্রশাসনের স্পষ্ট ঘোষণা জুয়া এবং মাদকের ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবেনা। প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে থানা পুলিশকে সহায়তা করার জন্যও বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে সচেতনা সৃষ্টি করা হয়েছে।
ডিবিএন/জেইউ।