উখিয়া প্রতিনিধি: | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 26 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ৩টা থেকে সোয়া ৩টার মধ্যে ১৫, ১১ ও ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত ২টা ৪৫ মিনিটে ১৫ নম্বর ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন কামাল হোসেন (৪৫), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মো. আনাস। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন। খবর পেয়ে ৮ এপিবিএন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠান এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
এর মাত্র ১০ মিনিট পর রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ১১ নম্বর ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড় ধসে একই পরিবারের আরও চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মো. রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
এরপর রাত সোয়া ৩টার দিকে ৭ নম্বর ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড় ধসে মো. রশিদের আট বছর বয়সী ছেলে মো. একরাম মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
অন্যদিকে, প্রাণহানির ঘটনার পাশাপাশি টানা বর্ষণের কারণে ১৯ নম্বর ক্যাম্পের এ/২, এ/৩ ও এ/১৫ ব্লকের একাধিক শেল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড় ধসে সৈয়দ হুসাইন ও মোহাম্মদ আমিনের ঘরের বাঁশের দেয়াল ভেঙে যায়। এছাড়া আবুল কালাম ও মোহাম্মদ ফারুকের ঘরের মেঝে পানিতে তলিয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে চারটি পরিবারের মোট ২৪ জন সদস্য আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তবে ওই ক্যাম্পে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
৮ এপিবিএন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পাশাপাশি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। তবে টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ক্যাম্পজুড়ে নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, “আগাম সতর্কতা ও বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তারপরও এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। টানা বৃষ্টির কারণে এখনো ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।”
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুজিবুর রহমান বলেন, “পুলিশ উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।”