| মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 250 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথি তলবের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ভুক্তভোগী ও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক প্রফেসর আখতার আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক মো. আবদুর রহিম এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম।
মামলার আসামিরা হলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী অনিক দে এবং নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালে প্রফেসর আখতার আলম মহেশখালীর বাসিন্দা ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ধার দেন। দেনাদার টাকা পরিশোধে গড়িমসি করলে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। পরে আদালত রায়ে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ছৈয়দ নুরের অনুকূলে বরাদ্দ ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ থেকে টাকা ফেরত দিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সে সময় দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আটকে রাখেন। পরে ২০২৪ সালে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হলে আবারও টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে নাজিম উদ্দিন আহমদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব যোগসাজশে পাওনা টাকা ছাড় করতে ১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পুনরায় আদালতে আবেদন করলে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট নথি তলবের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে আদালতের আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রফেসর আখতার আলম বলেন, আশা করছি আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাবো।
এদিকে, এলএ অফিসে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয় বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মহেশখালীর জমির মালিক ওমর কাজী অভিযোগ করে জানান, তার বাবার নামে প্রায় ৯ একর জমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের সময় সংশ্লিষ্ট অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার ও অফিস সহকারী ইমরান বিভিন্ন অজুহাতে বিলম্ব ঘটান। পরে বাধ্য হয়ে তিনি এক দালালের মাধ্যমে প্রায় ৩০ শতাংশ কমিশন দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অফিসের সিনিয়র কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি