বৃহস্পতিবার ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ঈদের জামাতে রোহিঙ্গাদের চোখে স্বদেশ ফেরার স্বপ্ন, প্রত্যাবাসনের আকুতি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ   |   বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   5 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ঈদের জামাতে রোহিঙ্গাদের চোখে স্বদেশ ফেরার স্বপ্ন, প্রত্যাবাসনের আকুতি

দশ বছর আগে ঈদুল আজহার দিনে নিজের দেশ মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন রাখাইনের মংডু শহরের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলী। পরিবার নিয়ে প্রাণে বাঁচলেও জীবনের শেষ সময়ে এসে এখনো তিনি প্রহর গুণছেন স্বদেশে ফেরার।

বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মোহাম্মদ আলীর মতো লাখো আশ্রিত মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মোনাজাতে ছিল প্রত্যাবাসনের আশা নিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে আকুতি এবং ২০১৭ সালের সহিংসতায় প্রাণ হারানো স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা।

মোহাম্মদ আলী বলেন,
“এক কাপড়ে এমন এক কোরবানির ঈদে ঘর ছেড়েছি, দশ বছর হয়ে গেল। জানি না আর কয়দিন বাঁচব। আল্লাহর কাছে শুধু চেয়েছি, আমার কবরটা যেন আরাকানের মাটিতেই হয়।”

সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু রোহিঙ্গা কোরবানি দিলেও অধিকাংশ পরিবার এখনো মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। নিজ দেশের কোরবানির স্মৃতি তুলে ধরে রোহিঙ্গা শিক্ষক আব্দুল্লাহ বলেন,
“আমরা অনেক বড় গরু কোরবানি দিতাম। কৃষিকাজ করে সংসার চলত, ভালো আয়-রোজগার ছিল। অথচ এখানে কষ্টে দিন কাটছে, কোরবানি দিতেও পারিনি।”

গত এক দশকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নিয়েছে প্রায় দুই লাখ শিশু। ঈদের আনন্দ থাকলেও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শিশুদের চোখেমুখে।

রোহিঙ্গাদের নাগরিক সংগঠন United Council for Rohingya (UCR)–এর সংগঠক মোহাম্মদ ফোরকান বলেন,
“আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রয়োজন, আর প্রত্যাবাসনই তার একমাত্র সমাধান। প্রতি ঈদেই আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আগামীর ঈদ যেন মিয়ানমারেই করতে পারি।”

তিনি আরও বলেন,
“বাংলাদেশ মানবিক আশ্রয় দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু এটি তো আমাদের দেশ নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করে আমাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা।”

রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও চাপ বাড়ছে। স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোছাইন বলেন,
“মানবিক কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করেছি। কিন্তু বাস্তবতায় এই সংকট এখন আমাদের বহুমুখী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্যত প্রত্যাবাসন ছাড়া আর কোনো সমাধান নেই, যদিও মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

প্রসঙ্গত, এবারের কোরবানির ঈদে বিভিন্ন এনজিও ও দাতা সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে কোরবানির মাংস বিতরণ করছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান জানান,
“সহায়তা কমতে থাকলেও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঈদে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রতি পরিবার ১ কেজি করে মাংস পাবে এবং সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয় কার্যক্রম তদারকি করছে।”

প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“বাংলাদেশ সবসময় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।”

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNHCR–এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা পাওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, ক্যাম্পের ভেতর ও বাইরে মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com