| সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 28 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে কণ্ঠভোটে এটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
বিলের ওপর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক কেনাবেচায় খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হচ্ছে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাক্টিভ সাবস্টেন্সের অবৈধ ক্রয়, বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা ও যোগাযোগ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এ আইনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর কাছ থেকে সরাসরি মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না; ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও লেনদেনের ওপর ভিত্তি করেই বিচার করা যাবে। এই অপরাধের সাজা হিসেবে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন বিটকয়েন) ইত্যাদি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করাও অপরাধের শামিল হবে।
একই সঙ্গে দেশের মাদক-সংক্রান্ত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধানটি পুনরায় সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুকূলে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার এবং চোরাচালান ও মাদক চিহ্নিত করতে বিশেষ ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠনের আইনি বিধানও বিলে যুক্ত করা হয়েছে।