শুক্রবার ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
হোয়াইক্যং-হ্নীলাকে গ্রাস করছে অনলাইন জুয়া

মাস্টার এজেন্ট ফয়েজের থাবায় ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   |   বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   2 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মাস্টার এজেন্ট ফয়েজের থাবায় ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ!

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যং ও হহ্নীলা ইউনিয়নে নিষিদ্ধ অনলাইন জুয়ার মরণনেশা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ১এক্সবেট (1xBet) নামক অবৈধ অনলাইন বেটিং অ্যাপসের ‘মাস্টার এজেন্ট’ ফয়েজের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ধ্বংসের মুখে পড়েছে স্থানীয় যুবসমাজ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজার গ্রামের সরোয়ারের ছেলে এই ফয়েজ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জুয়ার সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছে। তার চটকদার প্রলোভনে পড়ে হোয়াইক্যং ও হহ্নীলা এলাকার অন্তত শতাধিক তরুণ ও কিশোর আজ সর্বস্বান্ত হয়ে পুরোপুরি পথের ফকির বনে গেছে। জুয়ায় হেরে পুঁজি হারানোর পর এসব তরুণেরা এখন ধারের টাকা ও জুয়ার দেনা পরিশোধ করতে না পেরে জড়িয়ে পড়ছে মাদক পাচারসহ নানা মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।

ভয়াবহ বিষয় হলো, ঋণের বোঝা সইতে না পেরে ইতিমধ্যেই অনেক তরুণ এলাকা ছেড়ে নিখোঁজ হয়েছে এবং অনেকেই দেনাদারদের হাত থেকে বাঁচতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাড়ি জমিয়েছে, যাদের অনেকেরই এখন আর কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না।

অথচ বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া, বেটিং বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারের স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যন্ত এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অ্যাপসের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট চালিয়ে যাচ্ছে ফয়েজের মতো এজেন্টরা।

দেশের প্রচলিত আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইন অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে জুয়া খেলা, জুয়ার সাইট চালানো বা এর প্রচার-প্রসার করার অপরাধে জড়িতদের মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কঠোর কারাদণ্ডের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। একই সাথে জুয়ার মাধ্যমে অবৈধভাবে টাকা লেনদেন করার বিষয়টি মানি लॉन्ডারিং বা অর্থ পাচার আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিমূলক অপরাধ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ১এক্সবেট মাস্টার এজেন্ট ফয়েজের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সে ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “অনলাইন জুয়া বা বেটিং সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দেশের যুবসমাজ ধ্বংসের অন্যতম হাতিয়ার। যারা এই চতুর সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত, তাদের ব্যাপারে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। তরুণদের অপরাধে জড়ানো বা জুয়ার কারণে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই অবৈধ চক্রের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করছি এবং খুব দ্রুতই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি বহাল রয়েছে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, মাস্টার এজেন্ট ফয়েজের মতো মূল হোতাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনা না হলে এই অঞ্চলের যুবসমাজ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এই জুয়াড়ি চক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাব, পুলিশ ও ডিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com