শফিকুর রহমান | বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 15 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ সাব-ব্লকে অবস্থিত মসজিদুল কুবা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্লাস চলাকালে পাহাড়ের ঢাল ধসে প্রতিরক্ষা দেয়ালের ওপর আছড়ে পড়ে। দেয়ালটি ভেঙে বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে নির্মিত মাদ্রাসা ভবনের একটি অংশ ধসে পড়লে শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (RRRC) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আজকের দেশবিদেশকে জানান:- ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন এবং সিসিসিএম (CCCM) স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত উদ্ধার অভিযানে মোট ১৩ জন শিশুকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা আটজনে পৌঁছায়।
তিনি জানান, উদ্ধার অভিযান বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয় এবং পুরো কার্যক্রম আরআরআরসি কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
ক্যাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত চারজন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলো- ক্যাম্প-৫ এর এ-১১ ব্লকের হাশিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), ক্যাম্প-৩ এর এফ-১ ব্লকের আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩) ও তার বোন উম্মে সালমা (১২) এবং ক্যাম্প-৫ এর এ-৮ ব্লকের মোহাম্মদ ইলিয়াসের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩)।
আহতদের মধ্যে রয়েছে আসরা (৯), বেগম জান (১৫) ও ফারেসা বিবি (১২)সহ আরও কয়েকজন। তাদের ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন জানান, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মাদ্রাসার পাশের প্রতিরক্ষা দেয়ালের ওপর পড়ে। দেয়ালটি ভেঙে পড়লে পুরো কক্ষ ধসে যায় এবং শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় অন্তত ৩০ থেকে ৫০ জন ছাত্রী উপস্থিত ছিল। অধিকাংশ বের হয়ে যেতে পারলেও পাহাড়সংলগ্ন কক্ষে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী মাটির নিচে চাপা পড়ে।
ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস বলেন:- মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি ছিল। হঠাৎ পাহাড় ধসে পড়ে সবকিছু শেষ হয়ে যায়। মাটি ভরাট করে পাহাড়ের ঢালে মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
এর আগে সোমবার রাতে উখিয়ার তিনটি পৃথক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আটজন রোহিঙ্গা নিহত হন। একই সময়ে কক্সবাজার সদর, পেকুয়া ও দরিয়ানগর এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে গত তিন দিনের টানা বর্ষণ, পাহাড়ধস ও সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় কক্সবাজারে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পাহাড়ের পাদদেশ, পাহাড়ের ঢাল ও নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উদ্ধার ও জরুরি সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে। প্রয়োজনে ০১৮৭২-৬১৫১৩২ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে আরও কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।