শফিকুর রহমান | রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 36 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মানবপাচারসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি কাশেমকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি দল। তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলাকালে হঠাৎ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের পথরোধ করে।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ধাক্কাধাক্কি, ধস্তাধস্তি ও হামলা চালায়। আকস্মিক ওই হামলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হামলাকারীরা পুলিশের হেফাজতে থাকা হাতকড়াপরা আসামিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রকাশ্যে পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি এবং হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে পুলিশ এবং তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ, সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে বলে জানিয়েছে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সোলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- পুলিশের ওপর হামলা এবং হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আরিফ ও আবদুল আলম নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়া আসামি পলাতক থাকলেও তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলমান।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের হেফাজত থেকে প্রকাশ্যে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রমকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার শামিল। এমন ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, প্রকৃত জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে অপরাধপ্রবণ গোষ্ঠী আরও উৎসাহিত হতে পারে এবং জনমনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে পারে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে পুলিশি অভিযানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি কিংবা পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।