| বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 114 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
এম ফেরদৌস ::
কক্সবাজারের ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে প্যানেল চেয়ারম্যান তালিকা জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্র ও ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান বৈধ প্যানেল অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ছলিম উল্লাহ এবং প্যানেল চেয়ারম্যান-২ হিসেবে রয়েছেন বুলবুল আক্তার। কিন্তু এ তালিকাকে অগ্রাহ্য করে নাছির উদ্দীন নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হিসেবে দাবি করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠে।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, নাছির উদ্দীন কাগজপত্রে কারসাজি করে একটি ভিন্ন প্যানেল তালিকা উপস্থাপন করেছেন, যেখানে নিজেকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই তথাকথিত ‘ভুয়া প্যানেল’ ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক মহলে যোগাযোগ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বৈধভাবে যে প্যানেল গঠিত হয়েছে, সেটি উপেক্ষা করে নতুন করে কাগজ তৈরি করে নিজেকে প্যানেল-১ দাবি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি পরিষদের নিয়ম-নীতির পরিপন্থী।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে নাছির উদ্দীন বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করছেন এবং নিজের অবস্থান বৈধ প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এক স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। যদি এখানে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়, তাহলে তা পুরো ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নাছির উদ্দীনের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন। সেই থেকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত।
এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির ইউনিয়নের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ঝিলংজা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ। তারা বলছেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে কেউ দায়িত্বে এলে তা ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করতে পারে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা চাই যোগ্য ও নিয়ম অনুযায়ী যে দায়িত্ব পাওয়ার কথা, সে-ই দায়িত্ব নিক। কোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রভাব খাটিয়ে কেউ চেয়ারম্যান হলে সেটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাছির উদ্দীন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এগুলো আগের প্যানেলের বিষয়। আমরা নিয়ম মেনে নতুন প্যানেল গঠন করেছি এবং সেই অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি।
তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত প্যানেল তালিকা যাচাই করা জরুরি।
তাদের মতে, সঠিক তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হতে পারে।