মাহাবুবুর রহমান সিনিয়র ষ্টাফ রিপোরটারঃ | শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 46 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
স্থানীয়দের দাবি, গত দুই থেকে আড়াই দশকে বিপুল সংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিক বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্টসহ নানা সরকারি কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে। ফলে তারা স্থায়ীভাবে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই অন্তত গত ২৫ থেকে ৩০ বছরকে ভিত্তি ধরে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে একটি তালিকা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতে স্থায়ী নাগরিকদের তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের কক্সবাজারেও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত মিয়ানমারের নাগরিকদের একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা সময়ের দাবি। এতে অন্তত কারা বিদেশি নাগরিক হিসেবে এসেছিল, তাদের বর্তমান অবস্থা কী- সে বিষয়ে একটি সরকারি হিসাব থাকবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অজিদ দাশ বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। শুরুতে কিছু ত্রুটি থাকলেও ধীরে ধীরে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। এতে দেশে কত বিদেশি নাগরিক রয়েছে, তারা কোথায় অবস্থান করছে, কী পেশায় নিয়োজিত এবং তাদের পরিবার কী করছে- সে বিষয়ে একটি পরিসংখ্যান তৈরি হবে। প্রয়োজনে সংসদে বিল আকারে বিষয়টি উত্থাপন করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।
উখিয়ার কলেজ শিক্ষক অধ্যাপক মাসুদ ও সাংবাদিক ফারুখ আহমদের মতে, বাস্তবতার নিরিখে রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি অত্যন্ত জরুরি। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা ভোটার হয়েছে, অনেকে জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টও সংগ্রহ করেছে। এমনকি সরকারি চাকরি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। তাই ইউনিয়নভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের কাছে সংরক্ষণের দাবি জানান তারা।
মহেশখালীর কালারমারছড়ার বাসিন্দা মাস্টার জাকের হোসেন, কলেজ শিক্ষক আমিনুল হক ও ক্রীড়াবিদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, মহেশখালী উপজেলাতেই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা পরিবার বসবাস করছে বলে তাদের ধারণা। তাদের দাবি, এসব পরিবারের অনেকেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে এবং বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাগত অবস্থানে চলে গেছে। এ কারণে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন তারা।
কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল ও ঝিলংজা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকু বলেন, বিদেশি নাগরিকদের তথ্য সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার থাকা প্রয়োজন। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি সমন্বিত তালিকা প্রস্তুতের দাবি জানান তারা।