রবিবার ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

আদেশ প্রকাশের আগেই ‘সংবাদ কপি’ বিতরণ: কক্সবাজার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:   |   রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   153 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আদেশ প্রকাশের আগেই ‘সংবাদ কপি’ বিতরণ: কক্সবাজার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

কক্সবাজারের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের একটি মামলাকে ঘিরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে- আদালতের আদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা (pronouncement) হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট সেরেস্তা খানা থেকে “সংবাদ কপি” প্রদান করা হয়েছে, যা বিচারিক স্বচ্ছতা ও আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।

মামলার বিবরণ
অপর মামলা নং-৪০/২০২৩-ইং
বাদী: জাফর আহমদ গং
বিবাদী: জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার গং

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত শুনানির দিনে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে আদেশ প্রদান করবেন বলে শুনানি মুলতবি করেন। এরপর বাদীপক্ষ ১১ মার্চ ২০২৫ তারিখে ১২২৭ নম্বর দরখাস্তের মাধ্যমে সহিমোহরি নকল প্রার্থনা করেন, যা অ্যাডভোকেট জাফর আলমের মাধ্যমে দাখিল করা হয়।

বিরোধপূর্ণ তথ্য ও অনিয়মের অভিযোগ
নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট আদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও ২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নকলের আবেদন খারিজ করা হয়েছে বলে সেরেস্তা খানা থেকে জানানো হয়। এতে বাদীপক্ষ বিস্ময় প্রকাশ করে।

অন্যদিকে, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পেশকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আদেশ তখনও লিখনাধীন রয়েছে এবং আরও কিছু নথি নিষ্পত্তির পর তা সম্পন্ন হবে। কিন্তু এর আগেই ১০ মে ২০২৫ তারিখে নিষেধাজ্ঞার আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে মর্মে “সংবাদ কপি” সরবরাহ করা হয়- যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বাক্ষরবিহীন মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ১১ মার্চ ২০২৫ তারিখের পর মামলার নথিতে কাঠপেন্সিলে লেখা একটি মন্তব্য পাওয়া যায়-“আরএস, বিএস ও দিয়ারা খতিয়ান খাল হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা নামঞ্জুর।” তবে এই মন্তব্যের নিচে কোনো বিচারকের স্বাক্ষর নেই। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাক্ষরবিহীন এবং পেন্সিলে লেখা এমন মন্তব্য কোনোভাবেই বৈধ আদালতের আদেশ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

নতুন নথি উপেক্ষার অভিযোগ
বাদীপক্ষ ৫ মে ২০২৫ তারিখে আদালতে নতুন ডকুমেন্ট দাখিল করে, যেখানে উল্লেখ করা হয়- আরএস খতিয়ানে খাল থাকলেও বিএস ও দিয়ারা খতিয়ানে তা নেই। এসব নথি বর্তমানে মামলার সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আগেই আদেশের কপি সরবরাহ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মতামত
আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের কোনো আদেশ তখনই বৈধ ও কার্যকর হয়, যখন তা সম্পূর্ণরূপে লিখিত, বিচারকের স্বাক্ষরিত এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এর আগে কোনো ধরনের কপি প্রদান বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং গুরুতর প্রশাসনিক অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জবাবদিহিতার দাবি
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সেরেস্তা খানা ও আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা এ ধরনের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উপসংহার
কক্সবাজারের এই ঘটনাটি বিচারিক নথি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি ধাপে নিয়মের কঠোর অনুসরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি- এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com