বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
ফের আলোচনায় বদরখালী ফেরিঘাট

চাঁদা দাবি ও ডকইয়ার্ড বিতর্কে উত্তপ্ত বদরখালী, লিজকৃত জমিতে বাধা

অলি উল্লাহ রনি, স্টাফ রিপোর্টার চকরিয়া:   |   বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   12 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চাঁদা দাবি ও ডকইয়ার্ড বিতর্কে উত্তপ্ত বদরখালী, লিজকৃত জমিতে বাধা

কক্সবাজারের মাতামুহুরি উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের করিয়ারদ্বিয়া ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকায় জমির মালিকানা, ডকইয়ার্ড নির্মাণ ও জমির লিজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সরকারি ইজারাভুক্ত ফেরিঘাটের পাশে প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে ডকইয়ার্ড নির্মাণ অব্যাহত রাখার অভিযোগের পাশাপাশি, লিজ নেওয়া জমিতে কাজ করতে বাধা, তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বদরখালী-করিয়ারদ্বিয়া ফেরিঘাটটি জেলা প্রশাসনের ইজারাভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি টোল পয়েন্ট। সম্প্রতি ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকায় বালু ভরাট করে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী এনে একটি ডকইয়ার্ড নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ উঠলে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপায়ন দেব। পরিদর্শন শেষে তিনি নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা এবং আনা বালু ও নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের ওই নির্দেশনা কার্যকর না করে কয়েকদিন বিরতির পর আবারও ডকইয়ার্ড নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। এতে ফেরিঘাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে একই এলাকার উত্তর নতুন ঘোনাপাড়া ঘাটঘরসংলগ্ন প্রায় এক একর জমি নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ী মিনহাজ উদ্দিন মোহাম্মদ মাছুম দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমিটি ব্যবসার উপযোগী করতে তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। সম্প্রতি বদরখালী কৃষি ও উপনিবেশ সমবায় সমিতির মাধ্যমে তিনি জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে লিজ গ্রহণ করেন।

তাঁর অভিযোগ, লিজ নেওয়ার পর স্থানীয় কামাল হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২ জুন সকাল ৮টার দিকে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

মিনহাজ উদ্দিন মোহাম্মদ মাছুম বলেন, বৈধভাবে লিজ নেওয়ার পরও আমাকে চাঁদা দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। চাঁদা না দেওয়ায় আমার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি আমাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

অন্যদিকে সরকারি ফেরিঘাটের ইজারাদার নুরুল কবির অভিযোগ করেন, সরকারি ইজারাভুক্ত টোল পয়েন্টের কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে একটি প্রভাবশালী মহল সেখানে ডকইয়ার্ড নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আমরা সরকারি কোনো জায়গা দখল করিনি। আমাদের পরিবারের রেকর্ডভুক্ত জমিতে উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে। এটি এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি উদ্যোগ। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপায়ন দেব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনা অমান্য করে কেউ পুনরায় নির্মাণকাজ চালিয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, সরকারি সম্পত্তি কিংবা ইজারাভুক্ত টোল পয়েন্ট দখলের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান, সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com