শনিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

মিয়ানমার-আরাকান আর্মির ওপর ঐক্যবদ্ধ আন্তর্জাতিক চাপ জরুরি

দেশবিদেশ ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   69 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মিয়ানমার-আরাকান আর্মির ওপর ঐক্যবদ্ধ আন্তর্জাতিক চাপ জরুরি

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখানে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে এবং তাদের দ্রুত রাখাইনে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়। সংকটকে মিয়ানমারের বিস্তৃত সংস্কার প্রক্রিয়ার কাছে আটকানো যাবে না।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্যে এ সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি। রাতে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তহবিল ঘাটতি সমাধানের একমাত্র শান্তিপূর্ণ বিকল্প হলো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা, যা আন্তর্জাতিক সংরক্ষণের চেয়ে কম খরচে সম্ভব।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গারা সর্বদা নিজ বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিশেষত সম্প্রতি সংঘাত এড়াতে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাবাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত।
রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের ওপর ক্রমবর্ধমান সামাজিক, আর্থিক ও পরিবেশগত চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ, যেমন বেকারত্ব ও দারিদ্র?্য বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে কর্মসংস্থান দেওয়া সম্ভব নয়।

প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্যের সমাপনীতে বলেন, বিশ্ব আর রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষা করতে পারে না। আজ আমরা সবাই একত্রিত হয়ে এ সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার অঙ্গীকার জানানো হলো।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে ৭ সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার:

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ৭ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে বক্তৃতাকালে তিনি এসব সুপারিশ তুলে ধরেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
সুপারিশ সাতটি হলো-
১. রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরি।
২. মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রত্যাবাসন শুরু করা।
৩. রাখাইন স্থিতিশীলকরণে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও পর্যবেক্ষণ উপস্থিতি।
৪. রাখাইন সমাজে রোহিঙ্গাদের টেকসই সংহতকরণের জন্য আস্থা বৃদ্ধি কার্যক্রম।
৫. যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার জন্য দাতা তহবিল সম্পূর্ণ করা।

৬. দায়মুক্তি ও পুনঃস্থাপন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ও নরকো-অর্থনীতি ভেঙে দেওয়া এবং সীমান্ত-পারাপার অপরাধ প্রতিরোধ।
ড. ইউনূসের সঙ্গে ইউনিসেফ প্রধানের সাক্ষাত:

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা বিষয়ে আলোচনা: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেলের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।

সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একটি হোটেলে এ সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় চলমান রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে আলোচনা করেন ড. ইউনূস ও ক্যাথরিন রাসেল।
তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল চলমান রোহিঙ্গা সংকট। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার জন্য মানবিক কার্যক্রমে তহবিল ঘাটতির বিষয়টি প্রাধান্য পায়। এই তহবিল কমে যাওয়ায় শিবিরের রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাসেবায় বড় প্রভাব ফেলবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস তহবিল সংকটকে গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটির কারণে ইতোমধ্যেই বহু স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি কয়েক হাজার রোহিঙ্গা শিক্ষককে চাকরি হারাতে হয়েছে।

প্রফেসর ইউনুস আরও বলেন, ‘এটি একটি বড় ধরণের বিপর্যয়। শিবিরের শিক্ষাব্যবস্থা শত শত হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জীবনে নতুন আশার আলো দেখিয়েছিল। ক্ষোভ আর ক্রোধ নিয়ে বড় হওয়া এসব শিশুদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ যে কোন সময় যে কোনো দিকে তাদের রাগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।
ইউনিসেফ নির্বাহী পরিচালক রাসেল বৈশ্বিক তহবিল পরিস্থিতি কঠিন বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, প্রথাগতভাবে উদার হিসেবে পরিচিত ইউরোপীয় দেশগুলিও ইউনিসেফের মতো সংস্থার মানবিক তহবিলে অর্থ দেয়া কমিয়ে দিয়েছে।

তিনি বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, রোহিঙ্গা যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে, যাতে তারা শেষ পর্যন্ত সেই দক্ষতা দেশে ফিরে ব্যবহার করতে পারে।
সাক্ষাতে উপস্থিত ইউনিসেফের উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড চাইবান রোহিঙ্গা শিবিরে শিক্ষার ইতিবাচক প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে শিক্ষার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’
সাক্ষাতে মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের রোহিঙ্গা সম্মেলন সম্পর্কেও আলোচনা হয়।

রোহিঙ্গা শিবিরে শিক্ষাব্যবস্থা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং সম্প্রসারণের জন্য শক্তিশালী প্রচার চালাতে ইউনিসেফের প্রতি আহ্বান জানান ড. ইউনূস।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র নেতা তাসনিম জারা এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

ডিবিএন/জেইউ। 

 

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com