এম আবদুল্লাহ আনসারী , পেকুয়া | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 14 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের প্রভাবে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে মাতামুহুরি নদীর মেহেরনামা অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে দুইটি পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে
অসহায় জীবন যাপন করছে।
মাতামুহুরি নদীর পূর্ব মেহেরনামা রাবারড্যম এর পর থেকে ৩৪ নং স্লুইসগেট পর্যন্ত বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া না হলে ব্যাপক অনতির আশংকা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতভর পূর্ব মেহেরনামা এলাকার বেড়িবাঁধ রক্ষায় শত শত মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলে ও প্রাণপণে চেষ্টা চালিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। ভোররাতে জোয়ারের তীব্র স্রোতে বেড়িবাঁধের দুটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই নদীর পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে।
বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বাজার, রাস্তাঘাট, মাছের ঘের এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে পানির নীতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় কোমর থেকে বুকসমান পানি জমে থাকায় মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। নৌকা ছাড়া যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় রান্না করাও সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে বন্যার পানিতে শত শত একর আমন ধানের জমি, সবজি ক্ষেত এবং অসংখ্য চিংড়ি ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এতে কৃষক ও মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়েগেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে এবং পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পেকুয়ার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে উপজেলার উজানটিয়া, রাজাখালী, মগনামা, টৈটং, শিলখালী, বারবাকিয়া ও সদর ইউনিয়নের অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে জোয়ারের পরবর্তী ঢলে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে ভাঙা বাঁধ মেরামত, পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।