মঙ্গলবার ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

​কক্সবাজার জেলগেট এলাকা যেন মাদক পরিবহনের হট স্পট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   |   সোমবার, ১৮ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   18 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

​কক্সবাজার জেলগেট এলাকা যেন মাদক পরিবহনের হট স্পট

​কক্সবাজার শহরের জেলগেট ও উত্তরণ এলাকা মাদকের চালান খালাস ও পরিবহনে কৌশলী পরিবর্তনের (মডিফিকেশন) নতুন ‘হট স্পট’ হিসেবে গড়ে উঠেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। টেকনাফ থেকে আসা ইয়াবার বড় বড় চালান ঢাকার উদ্দেশ্যে পাচারের জন্য এই এলাকার বেশ কিছু গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপকে (গ্যারেজ) নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে মাদক কারবারিরা। মাদক পরিবহনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এসব ওয়ার্কশপে গাড়ির বিভিন্ন গোপন স্থানে বিশেষ কায়দায় মাদকের জোগান বা চেম্বার তৈরি করা হচ্ছে।
​গাড়ির বাম্পার ও দরজায় তৈরি হচ্ছে ‘মাদক চেম্বার’
​সরেজমিনে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলগেট এলাকায় শতাধিক গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ রয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কিছু সন্দেহভাজন ওয়ার্কশপে টেকনাফ থেকে আসা ইয়াবা ঢাকার উদ্দেশ্যে নিরাপদে পাচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দূরপাল্লার ও স্থানীয় পরিবহনের ভেতরে বিশেষ নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে গাড়ির সামনের বাম্পার, দরজার সাইড বক্স, সিটের নিচে এবং এসির ভেতরের অংশে সুবিধাজনক গোপন কুঠুরি তৈরি করে দেওয়া হয়। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু ওয়ার্কশপ মেকানিকরা।
​মাদক কারবারিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ‘সেফ হাউস’
​অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু গাড়ি পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এই চক্রের কর্মকাণ্ড। কিছু কিছু ওয়ার্কশপ টেকনাফের মাদক কারবারিদের ট্রানজিট বা মালামাল রাখার ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি ওয়ার্কশপ মালিক ও কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যাংক এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মাদকের লাখ লাখ টাকা লেনদেন করার অভিযোগও রয়েছে।
​উত্তরণ এলাকা ও বাস স্ট্যান্ডে চলে স্থানান্তর (রিশিপমেন্ট)
​অপরদিকে, শহরের ‘উত্তরণ’ এলাকায় টেকনাফ থেকে আসা পরিবহনগুলো থেকে অত্যন্ত গোপনে ইয়াবার চালান নামিয়ে অন্য দূরপাল্লার পরিবহনে স্থানান্তর করা হয়। উত্তরণ সংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্ট ও আশেপাশে গড়ে ওঠা বাস স্ট্যান্ডগুলোতে পার্কিং করে রাখা বাসগুলোকেও কোনোভাবেই সন্দেহের তালিকা থেকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক সূত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের আঁধারে এসব বাস স্ট্যান্ড ও গ্যারেজে বহিরাগত এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
​যা বলছেন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতি
​এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলগেট এলাকার ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, “আমরা অপরাধের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার। কোনো নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ বা মেকানিক যদি মাদক কারবার বা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকে, তবে সমিতি তার দায় নেবে না। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রশাসনের আইনি অ্যাকশনে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করব।”
​শক্ত হাতে দমনের হুঁশিয়ারি ওসির
​সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন:
​”মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কেউ যদি ইয়াবা কারবারিদের সুবিধা দেওয়ার জন্য পরিবহনে গোপন জোগান বা চেম্বার তৈরি করে দেয়, কিংবা অপরাধে সহায়তা করে, তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তাদের শক্ত হাতে দমন করা হবে। জেলগেট ও উত্তরণ এলাকাসহ সকল সন্দেহভাজন স্পটে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই গ্যারেজ ও ট্রানজিট পয়েন্টগুলোতে দ্রুত চিরুনি অভিযান না চালালে কক্সবাজার থেকে মাদকের এই নতুন রুট ও কৌশল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com