শনিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
মাগফিরাতের দশ দিন

রমজানের সাদাকায় ফুটুক অভাবীর মুখে হাসি

দেশবিদেশ ডেস্ক:   |   শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   36 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

রমজানের সাদাকায় ফুটুক অভাবীর মুখে হাসি

মাহে রমজান আখেরাতের মুনাফা অর্জনের মাস, দুনিয়াবি প্রাচুর্য বাড়ানোর নয়। এটি দয়া, করুণা ও সহমর্মিতার ঋতু। রোজাদার যখন দিনভর ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করে, তখন সে অভাবীর প্রতিদিনের যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে শেখে। সিয়াম আমাদের শেখায়- অপচয় নয়, উদারতা; প্রদর্শন নয়, মানবসেবা। রমজানে সাদাসিধে জীবনযাপন করে দান-সদকায় মন দিলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের উপকার হয়, আর আমাদের আত্মাও পরিশুদ্ধ হয়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি তিনটি বিষয়ে শপথ করে বলছি, দান দ্বারা সম্পদ কমে না; জুলুমের পর ধৈর্য ধরলে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়ান; আর যে ব্যক্তি অকারণে নিজেকে অভাবী প্রকাশ করে, আল্লাহ তার জন্য অভাবের দুয়ার খুলে দেন।’ দান আমাদের ক্ষতি করে না; বরং মর্যাদা, বরকত ও নিরাপত্তা বাড়ায়।

রমজানকে নবীজি রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস হিসাবে ঘোষণা করেছেন। এ মাসে তিনি ছিলেন প্রবাহমান বাতাসের মতো উদার। হাদিসে এসেছে, জিবরাইল (আ.)-এর আগমনের পর রমজানে তাঁর দান আরও বৃদ্ধি পেত। তিনি কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না। এই মাস আমাদের শেখায়, অভাবীর পাশে দাঁড়ানোই ইবাদতের অংশ।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর, তবে তা ভালো; আর যদি গোপনে অসহায়দের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। এতে আল্লাহ তোমাদের পাপ মোচন করবেন।’ (সুরা বাকারা-২৭১)। অতএব, গোপনে দান করা আন্তরিকতার পরিচয়, আর তা পাপ মোচনের কারণ।

একদিন এমন সময় আসবে, যখন মানুষ আফসোস করে বলবে, কেন আমি দান করিনি! কেন আমি ভালো মানুষের অন্তর্ভুক্ত হলাম না! আল্লাহ সতর্ক করে বলেন, ‘আমি তোমাদের যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগে ব্যয় কর। নচেৎ বলবে, হে আমার রব! আমাকে আরও কিছু সময় দিলে আমি দান-সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ (সুরা মুনাফিকুন-১০) কিন্তু তখন আর সে সুযোগ ফিরে আসবে না।

হাদিসে এসেছে, ‘বান্দা যখন দানের হাত বাড়ায়, তা অভাবীর হাতে পড়ার আগেই আল্লাহর হাতে পৌঁছে যায়।’ এই চেতনা দানকে সামাজিক দায়িত্ব ও আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ বানিয়ে দেয়।

রমজান সহানুভূতির মাস। আমাদের আশপাশে অসংখ্য মানুষ আছে, যাদের ঘরে ইফতারের আয়োজন নেই, সেহরির খাবার নেই, পর্যাপ্ত বস্ত্র নেই। তাদের দিকে তাকানো, তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হওয়াই সিয়ামের চেতনা।

যে ব্যক্তি শুধু প্রথাগত উপবাসে সীমাবদ্ধ থাকে কিন্তু দানশীলতা চর্চা করে না, তার রোজা পূর্ণতা পায় না। প্রকৃত সিয়াম হলো, উপবাসের সঙ্গে উদারতা, আত্মসংযমের সঙ্গে মানবসেবা, আর ইবাদতের সঙ্গে করুণা।

অপচয় কমাই, সাদাসিধে ইফতার করি, আর সঞ্চিত অর্থ দিয়ে অনাহারীর মুখে অন্ন তুলে দিই। একটি পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া, একজন এতিমকে সহায়তা করা, একজন শ্রমজীবীর পাশে দাঁড়ানো-এই ছোট ছোট উদ্যোগই হতে পারে আমাদের নাজাতের কারণ।

আসুন, এ মাহে রমজানে দানের হাত প্রসারিত করি। মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করি। আল্লাহ আমাদের দান কবুল করুন, হৃদয়কে উদার করুন এবং আমাদের কল্যাণকামীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

লেখক : গবেষক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

Facebook Comments Box

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

প্রকাশক ও সম্পাদক
তাহা ইয়াহিয়া
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
বিজয় কুমার ধর

যোগাযোগ

প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত

মোবাইল : বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন : 01828090145, 01812586237

ই-মেইল: ajkerdeshbidesh@yahoo.com